Successful Blog

তোমরা নারীদেরকে পছন্দমতো বিয়ে করো

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিয়ে আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত এমন এক মহান বিধান, যা হজরত আদম :-এর যুগ থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত চলমান এবং কিয়ামত অবধি চালু থাকবে ইনশাআল্লাহ। বিয়ে রাসূলে কারিম সা:-এর সুন্নাত। তবে মানুষের অবস্থাভেদে বিয়ে কারো জন্য ফরজ, কারো জন্য সুন্নাত, কারো জন্য মাকরুহ। আবার কারো জন্য বিয়ে করা হারাম। বিয়ে না করলে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা হলে এবং স্ত্রীর মোহর ভরণ-পোষণ দেয়ার সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করা ওয়াজিব। আর গুনাহে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা না থাকলে বিয়ে করা সুন্নাত।

রাসূলে কারিম সা: বিয়েকে ঈমানের অর্ধেক বলেছেন। কেননা, বিয়ের কারণে মানুষ বহু গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারে। আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি হুকুম পালনের ক্ষেত্রে যেমন নির্ধারিত নিয়মাবলি রয়েছে, তেমনি বিয়ের মাধ্যমে যে নতুন সংসার গঠিত হয়, তার জন্যও বেঁধে দিয়েছেন বেশকিছু নিয়মনীতি। যেমন- কোনো মুসলমান বিধর্মীদের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। বিয়ের সময় অবশ্যই সাক্ষীর উপস্থিতি থাকতে হবে। বিয়ে করতে হলে স্ত্রীকে মোহর দিতে হবে। এটি তার প্রাপ্য। বিয়েতে যৌতুক নেয়া যাবে না, যা জঘন্যতম ঘৃণ্য কাজ। বিয়ের পর স্বামী তার স্ত্রীর মালিক হয়ে যায় না। এমন নয় যে, স্বামী স্ত্রীকে তার ইচ্ছেমতো পরিচালনা করবে। যখন ইচ্ছে তখন স্ত্রীকে ব্যবহার করবে। যেভাবে ইচ্ছে তাকে ভোগ করবে। এর প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা সীমারেখা।

 

স্বামী তার স্ত্রীর মালিক না হলেও স্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, সে একজন পুরুষের অধীনে রয়েছে। শরিয়তসম্মত বিষয়ে তার কথা মেনে চলতে হবে। তবে শরিয়ত গর্হিত কোনো আদেশ স্বামীর পক্ষ থেকে এলে সে তা মানতে বাধ্য নয়। অন্যায় কাজে স্বামীর অনুসরণ করা যাবে না। মুসলিম উম্মাহর একান্ত কর্তব্য, শরিয়তে ইসলামীতে বিয়ের যেসব নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে সেগুলোর পূর্ণ জ্ঞান রাখা এবং স্বামীর প্রতি স্ত্রীর হক স্ত্রীর প্রতি স্বামীর হক কী কী তা যথাযথভাবে জানা এবং সে মুতাবেক আমল করা।
বিয়ের শরয়ি রূপ : শাব্দিক অর্থে বিয়ে হচ্ছে মেলানো বা জুড়ে দেয়া। শরিয়তে ইসলামীর পরিভাষায় এর অর্থ- নারী-পুরুষের একে অন্যকে (বৈধ পন্থায়) উপভোগ করার চুক্তিবিশেষ যাতে ইজাব কবুল অর্থাৎ, প্রস্তাব সমর্থন (এবং দুজন সাক্ষী) থাকা আবশ্যক। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের বিয়ে করো (একটি, যদি তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে ) দুটি, তিনটি বা চারিটি। অবশ্য যদি আশঙ্কা বোধ করো যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে (ক্ষান্ত থাকো) এতে তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশি।’ (সূরা নিসা-)

বিয়ের গুরুত্ব : পবিত্র কুরআনে হারাম নারীদের ফিরিস্তি উল্লেখপূর্বক ইরশাদ হয়েছে- ‘আর ছাড়া অন্য নারীদেরকে নিজেদের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে (অর্থাৎ মোহর দিয়ে বিয়ে করার) কামনা করাকে বৈধ করা হয়েছে, এই শর্তে যে, তোমরা (বিয়ে) করবে চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার ইচ্ছায়, কেবল কাম চরিতার্থকারী হবে না। সুতরাং তোমরা (বিয়ে সূত্রে) যেসব নারী দ্বারা আনন্দ ভোগ করেছ, তাদেরকে ধার্যকৃত মোহর প্রদান করো। অবশ্য (মোহর) ধার্য করার পরও তোমরা পরস্পরের সম্মতিতে (কমবেশি করলে) তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা নিসা-২৪) অন্য এক আয়াতে এসেছে- ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন মুসলিম নারীদের বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত মুসলিম দাসীদেরকে বিয়ে করে। আল্লাহ তোমাদের ঈমান সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তোমরা সবাই পরস্পর সমতুল্য। সুতরাং সেই দাসীদেরকে তাদের মালিকদের অনুমতিক্রমে বিয়ে করতে পারো এবং তাদেরকে ন্যায়ানুগভাবে তাদের মোহর দিতে হবে। এই শর্তে যে, (বিয়ে করার মাধ্যমে) তাদের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষা করবে, তারা কেবল কাম-চরিতার্থকারিণী হবে না এবং গুপ্ত প্রণয়ী গ্রহণকারিণীও নয়।...এসব (অর্থাৎ দাসীদেরকে বিয়ে করার বিষয়টি) তোমাদের মধ্য থেকে যারা (বিয়ে না করলে) গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বোধ করে, তাদের জন্য। আর তোমরা যদি সংযমী হয়ে থাকো, তবে সেটিই তোমাদের পক্ষে শ্রেয়। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা নিসা-২৫)
হাদিস শরিফে রাসূলুল্লাহ সা: ইরশাদ করেন, হজরত ইবনে মাসউদ রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: আমাদেরকে বলেছেন, ‘হে যুবকরা, তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের পরবর্তী দায়দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম তারা যেন বিয়ে করে, কারণ বিয়ে তার চক্ষুকে অধিকতর সংযত করবে এবং তার যৌনাঙ্গকে অধিকতর সংযত সংরক্ষিত রাখবে। আর যে তাতে সক্ষম নয় সে যেন সিয়াম পালন করে।’ (বুখারি-৫০৬৬, মুসলিম-১৪০০, সুনানে আবি দাউদ-২০৪৬, সুনানে তিরমিজি-১০৮১, সুনানে নাসায়ি-২২৩৯, সুনানে ইবনে মাজাহ-১৮৪৫, ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার-১৫৪৯)

হজরত মাকাল ইবনে ইয়াসার রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা বিয়ে করো ভালোবাসিনী অধিক সন্তান প্রসবিনী নারীকে। কেননা, আমি তোমাদের সংখ্যা নিয়ে অন্যান্য উম্মতের ওপর ফখর করব।’ (সুনানে আবু দাউদ সুনানে নাসায়ি, সূত্র : মিশকাতুল মাসাবিহ-৩০৯১)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা কুমারীদের বিয়ে করো। কেননা, তারা বেশি মিষ্টভাষিণী এবং অধিক গর্ভধারিণী (সন্তান প্রসবিনী) এবং তারা অল্পতে তুষ্ট থাকে। হাদিসটি ইমাম ইবনে মাজাহ মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ-৩০৯২)

 

 আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 

সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে:
biodata@moonmarriagemedia.com
পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more