সম্পর্কে সবকিছুর আগে প্রয়োজন হয় বিশ্বাসের। বিশ্বাস না থাকলে যেকোনো সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কখনো এমন হতে পারে, কোনো কারণে বিশ্বাস হারিয়ে যায় কিন্তু আমরা সেই সম্পর্ক ভেঙে বের হয়ে আসতে চাই না। এমনটা হলে নতুন করে বিশ্বাস গড়ে তোলার উপায় রয়েছে। তবে সেজন্য প্রয়োজন হবে ধৈর্যের। কারণ বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। জেনে নিন এমন ৬টি উপায় যার মাধ্যমে সম্পর্কে নতুন করে বিশ্বাস গড়ে তোলা যায়-
ভুলগুলো সংশোধন করুন
আপনি যদি ভুল করে থাকেন তবে সেগুলো সংশোধন করুন। নিজের ভুল শুধরে না নিয়ে বারবার দুঃখিত বললেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর বদলে নিজেকে জাগিয়ে তুলুন। নিজের অন্যায়কে স্বীকার করা এবং নিজের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন। আপনার প্রচেষ্টা দেখে যেন আপনার সঙ্গী নতুন করে বিশ্বাস স্থাপনের সাহস পায়।
বিশ্বাস তৈরি করার জন্য চুপ করে থাকলে চলবে না। বরং কথা বলুন। খোলাখুলি আলোচনা অনেক সমস্যার সমাধান সহজ করে দেয়। সঙ্গীর কাছে কিছু লুকাবেন না। আপনি যত বেশি লুকাবেন, সম্পর্ক ততই খারাপ হবে। সম্পর্কের মধ্যে লুকোচুরি হলো স্লো পয়জনের মতো, এটি ধীরে ধীরে বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। ঝগড়া-ঝাটি নয়, দুজনে মুখোমুখি বসে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বললে তা আপনাদের দুজনকে আবার কাছাকাছি নিয়ে আসবে। একে-অপরের প্রতি আবার আস্থাশীল হয়ে উঠবেন।
ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করুন
সমস্ত সম্পর্কের ক্ষেত্রেই দেখবেন, বিশ্বাস তৈরি করতে হলে নিজেদের মধ্যে সেই চর্চা থাকতে হয়। একথা সত্যি প্রেম কিংবা বিয়ের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও। বিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য আপনাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একসঙ্গে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তৈরি করুন। গেম খেলতে পারেন, একসঙ্গে রান্না এবং বাগান করতে পারেন। অথবা দুজনের ভালো লাগে এমন কোনো কাজ করতে পারেন।
দায়িত্ব নিন
সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে। বিশেষ করে সেটি যদি দাম্পত্য সম্পর্ক হয়। সমস্ত ভার অপরজনের ওপর ছেড়ে দেবেন না। তাই নিজে দায়িত্ব নিতে শিখুন যেন আপনাকে দেখে সেও নিজের দায়িত্বগুলোর প্রতি সচেতন হয়। আপনাকে বিশ্বাস না করার বা আপনার ওপর আস্থা না রাখার সুযোগ তাকে দেবেন না। বারবার ভুলের কোনো সুযোগ নেই। কারণ এক-দুইবার ভুল হলে ক্ষমা পাওয়া যেতে পারে, বারবার ভুল করলে সঙ্গী আপনার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
সৎ হোন
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য কেবল মিথ্যাই যথেষ্ট। সঙ্গীর কাছে সব বিষয়ে সৎ থাকুন। সত্য বলুন। মনে রাখবেন, মিথ্যা বিশ্বাসযোগ্যতা হ্রাস করে। সঙ্গীর কোনো কথা যদি পছন্দ না হয় তবে তাকে জানান। আপনার প্রাক্তন কোনো পছন্দের মানুষের সঙ্গে দেখা কিংবা কথা হলে তা আপনার সঙ্গীকে জানা, সেই প্রাক্তনের প্রতি যে আর কোনো আকর্ষণ বেঁচে নেই সেকথাও জানিয়ে দিন।
অনুভূতি প্রকাশ করুন
ভালোবাসার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনুভূতি এবং ভালোবাসা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। আপনি তাকে ভালোবাসেন একথা জানানো জরুরি। শুধু মুখের কথা দিয়ে নয়, বোঝাতে হবে কাজ দিয়েও। আপনি যদি কারও ভুল ধরতে থাকেন তবে একটা সময় সে বিরক্ত হয়ে উঠতে পারে। এটি সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর। তাই নিজের ইতিবাচক ও শুদ্ধ অনুভূতির কথাই শুধু প্রকাশ করুন। আপনার ভালোবাসার প্রকাশ ধীরে ধীরে সম্পর্কে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে।
প্রেমের সম্পর্কে থাকলেই সঙ্গীকে সব কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় না। এমনকী সব প্রশ্নও করা হয়ে ওঠে না। কিছু প্রশ্ন তখন মুখে আটকে যায়, দ্বিধা এসে দুয়ারে দাঁড়ায়। হয়তো প্রশ্ন করার আগে মনে হতে পারে, মানুষটি আমাকে ভুল বুঝবে না তো! মেয়েরা অনেক কথা বললেও কিছু কথা বলতে গিয়ে আটকে যায়। কিছু প্রশ্ন করতে গিয়েও থেমে যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক মেয়েরা ছেলেদের কোন প্রশ্নগুলো সাধারণত জিজ্ঞেস করতে পারে না-
তোমার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী?
অনেক মেয়ে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে ছেলেদের জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করে কারণ এটি এমন একটি প্রশ্ন যা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ক্যারিয়ারের আকাঙ্খার মধ্যে পড়ে। তারা মনে করে এই ধরনের প্রশ্ন সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যদি লক্ষ্য ভিন্ন হয়। অনেক পুরুষ এই প্রশ্ন থেকে পালিয়ে যায় এবং এটি নিরাপত্তাহীনতার দিকে নিয়ে যায় যা মেয়েদের এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে আরও নিরুৎসাহিত করে। তবে দু’জনেই একই পথে রয়েছে তা নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
মেয়েরা তাদের সম্পর্কের নিয়ে সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করতে ভয় করে। সম্পর্ক নিয়ে সঙ্গীর সত্যি অনুভূতিটা জানার সাহস সব মেয়ের হয় না। কারণ ইতিবাচকের পাশাপাশি নেতিবাচক কিছু গ্রহণ করতে চায় না তারা। তবুও সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলাই সুস্থ এবং সুখী সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীরা মানসিক বা অন্যান্য চাহিদা সম্পর্কে ছেলেদের জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধা করে। হয়তো তার মনের মতো হয়ে উঠতে পারেনি বা তার চাহিদাগুলো পূরণের যোগ্যতা নেই এই দ্বিধা থেকেই মেয়েরা এমন প্রশ্ন করতে ভয় পায়। তবে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করাটা বোঝাপড়া বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। তাই দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে প্রশ্ন করাই উত্তম।