Successful Blog

সন্দেহ দাম্পত্য জীবনের অভীশাপ !

দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ হলে করণীয়

দাম্পত্য জীবনে অশান্তির অন্যতম কারণ পরস্পরের প্রতি সন্দেহ পোষণ করা। নিছক সন্দেহের কারণেও বহু মানুষের সংসার ভেঙে যায়, পারস্পরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ, অন্যের কথায় প্রভাবিত হওয়া, সন্দেহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে নিষেধ করে। বিপরীতে ইসলাম জীবনসঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার এবং প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সুধারণা পোষণ করার নির্দেশ দেয়।
মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হয়।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ৬)
সন্দেহকে প্রশ্রয় নয় : সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক কারণে কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি সন্দিহান হতে পারে। তবে ভিত্তিহীন কোনো সন্দেহকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। কেননা কখনো কখনো এমন সন্দেহ মানুষকে অন্যায় পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! তোমরা বেশির ভাগ অনুমান থেকে দূরে থাকো।
কেননা অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১২)
অন্যের কথায় প্রভাবিত না হওয়া : দাম্পত্য জীবনে সন্দেহ সৃষ্টির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো অন্যের কথায় প্রভাবিত হওয়া এবং জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে অন্যের কথা বিশ্বাস করা। ইসলাম অন্যের কথা দ্বারা প্রভাবিত হতে নিষেধ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে অনুতপ্ত হতে হয়। 
(সুরা হুজরাত, আয়াত : ৬)
খোলামেলা কথা বলা : যদি কখনো স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের আচরণে কোনো কিছুকে সন্দেহজন মনে হয়, তবে তারা নিজেদের মধ্যে তা আলোচনা করে নেবে। যদি নিজের সঙ্গীকে বলার মতো পরিবেশ না থাকে, তবে মা-বাবার মতো হিতাকাঙ্ক্ষী ও গুরুজনের সঙ্গেও কথা বলতে পারে। উত্তম হলো যার ব্যাপারে সন্দেহ হচ্ছে তার সঙ্গেই আলোচনা করে নেওয়া। ধোঁয়াশা রেখে সন্দেহের পেছনে ছুটবে না। আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ কোরো না।
কান, চোখ, অন্তর—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩৬)
আল্লাহর কাছে সুপথ চাওয়া : সন্দেহ মানসিক কষ্টের কারণ এবং তা মানুষকে সুপথ থেকে বিচ্যুত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া শিখিয়েছেন, ‘হে আল্লাহ! আমাকে সুপথ নসিব করুন এবং আমাকে মনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৮১)
উসকানিদাতাদের এড়িয়ে চলা : সমাজ ও পরিবারের বহু মানুষ হিতাকাঙ্ক্ষীরূপে স্বামী-স্ত্রীকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দেয়, পরস্পরের মনে সন্দেহ জাগিয়ে তোলে। এমন মানুষদের এড়িয়ে চলাই উত্তম। কেননা তারা মানুষরূপী শয়তান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়েছে  যে নামাজ আদায়কারীরা তার ইবাদত করবে না। কিন্তু সে তাদের মধ্যে একজনকে অন্যজনের বিরুদ্ধে উসকানি দিতে নিরাশ হয়নি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৩৭)

প্রকৃতপক্ষে ইসলাম মুমিনদের এমনভাবে জীবন যাপন করতে বলে যেন দাম্পত্য জীবনে কোনো ধরনের সংশয় তৈরি না হয়। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্রতি ইসলামের নির্দেশনা হলো :

১. দৃষ্টি সংযত রাখা : স্বামী-স্ত্রী উভয়ে সংযত জীবন যাপন করবে। যেন জীবনসঙ্গী তাদের প্রতি সন্দেহের অবকাশ না পায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিন পুরুষদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। ...মুমিন নারীদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩০-৩১)

২. আল্লাহভীতির জীবন যাপন করা : যখন কোনো বান্দা তাকওয়া তথা আল্লাহভীতির জীবন যাপন করে, তখন আল্লাহ তার জীবনকে সংকটমুক্ত রাখেন। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে জীবিকা দান করবেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ২-৩)

৩. দূরে না থাকা : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সংশয় তৈরির অন্যতম কারণ পরস্পর থেকে দূরে থাকা। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর দূরে থাকাকে অপছন্দ করে। এমনকি পরস্পরকে অপছন্দ করলেও কাছে থাকার নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ স্ত্রী থেকে আলাদা হয় না। কেননা সে স্ত্রীর একটি আচরণে অসন্তুষ্ট হলেও অন্য আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৪৬৮)

আল্লাহ সবাইকে সুখময় দাম্পত্য জীবন দান করুন। আমিন।

বর্তমান সময়ে মানুষের পারিবারিক জীবনে যে বিষয়টি মহামারি আকার ধারণ করেছেতা হলো দাম্পত্য জীবনে কলহ-বিবাদ  পরকীয়ার মতো জঘন্যতম ঘটনাযা পারিবারিক  সামাজিক জীবনে অহরহ ঘটছে। ফলে দাম্পত্য জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিসহ। দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক যখন ভালো থাকেমনে হয় পৃথীবিটাই তার জন্য জান্নাত। আর যখনই তাদের মাঝে সন্দেহ-অবিশ্বাসকলহ-বিবাদ শুরু হয় এবং তা পরকীয়ায় রূপ নেয় তখন দুনিয়াটাই হয়ে ওঠে জাহান্নাম। তাই দাম্পত্য জীবনের  দুর্বিষহ অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের রয়েছে কিছু করণীয়।

স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনের  খারাপ পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতে রয়েছে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসংখ্য উপদেশযা মেনে চলায় রয়েছে মহা কল্যাণ  মুক্তির পথ। ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে প্রতিটি মুহূর্ত। দুনিয়াতে প্রতিটি মুহূর্তে বিরাজ করবে শান্তির সুবাতাস। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপদেশগুলো থেকে কয়েকটিস্বামীর উচিত স্ত্রীকে দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া। স্ত্রীর যাবতীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। যখনই স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেবেসেখানে শান্তি আসবেই। হাদিসে এসেছেহজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সমগ্র দুনিয়াটাই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সর্বোত্তম সম্পদ হলো পুণ্যবতী স্ত্রী।’ (মুসলিম)ঠিক স্বামীদের বেলায় তাদের উত্তম চরিত্রকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যখনই স্বামীরা পরিপূর্ণ দ্বিনদার হয়ে উঠবেন তখন তারা স্ত্রীদের কাছেও দামি হবেন। হাদিসে এসেছেহজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনরসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির চরিত্র  আচরণ সবচাইতে উত্তমইমানের দৃষ্টিতে সেই ব্যক্তিই পরিপূর্ণ মুমিন। আর তোমাদের মধ্যে সেসব লোক- উত্তমযারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি)

স্বামীর প্রতি আনুগত্যই দিতে পারে স্ত্রীকে সর্বোত্তম মর্যাদা। কথা  কাজে স্বামীর প্রতিটি কাজের সুপরামর্শদাতা  সহায়ক হলে স্ত্রী হবে নিশ্চিত জান্নাতি। হাদিসে এসেছেহজরত উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেনরসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো স্ত্রীলোক যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যেস্বামী তার ওপর সন্তুষ্টতবে সে স্ত্রী জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজিকোনো স্ত্রী যখন তার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বা অবাধ্য হয় তখন জান্নাতের  ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত হুররা তার জন্য অভিশাপ দিতে থাকে। হাদিসে এসেছেহজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখনই কোনো নারী তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিতে থাকেতখনই (জান্নাতেরহুরদের মধ্যে তার সম্ভাব্য স্ত্রী বলে, (হে অভাগিনি!) তুমি তাকে (স্বামীকেকষ্ট দিয়ো না। আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করুকতিনি তোমার কাছে একজন মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন।’ (তিরমিজি)

 কারণেই অবাধ্য স্ত্রীদের প্রতি ফেরেশতারা অভিশাপ দিতে থাকে।  ব্যাপারে হাদিসে এসেছেহজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেনরসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি তার বিছানায় স্ত্রীকে ডাকেকিন্তু স্ত্রী তাতে সাড়া না দেয়আর স্বামী তার ওপর অসস্তুষ্ট হয়ে রাত যাপন করেতবে ভোর পর্যন্ত ফেরেশতারা তার (স্ত্রীরপ্রতি অভিশাপ দিতে থাকে। (বুখারি  মুসলিম) হজরত আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু আরো বলেন, ‘প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘স্বামী বাড়িতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর পক্ষে (নফলরোজা রাখা বৈধ নয়। তার অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার ঘরে ঢোকার অনুমতি দেওয়াও তার (স্ত্রীরজন্য বৈধ নয়।’ (বুখারি  মুসলিম) নারীরা যদি প্রিয় নবির  হাদিসটির ওপর আমল করে অন্য পুরুষকে নিজেদের ঘরে প্রবেশ করতে না দেয় বা তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের বাক্য বিনিময় না করেতবে পরকীয়া নামক মহামারি কোনো নারীকেই স্পর্শ করার কথা নয়।

আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 


সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com


We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more