পরিবারকে সময় দিন
জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে আমরা সবাই ব্যস্ত। ব্যবসা-বাণিজ্যে, চাকরিতে বা জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভের জন্য সবাই দুরন্ত গতিতে ছুটে চলেছি সময়ের রথে চড়ে। ছুটতে ছুটতে, চলতে-চলতে অনেকেই ভুলে যাই আমাদের চারপাশ এবং পরিবারকে। পরিবারকে সময় দেয়ার সময় কোথায়? আপনি হয়ত ভাবছেন এ আবার কেমন কথা। আমি তো পরিবারের সঙ্গেই আছি। ওদের জন্যই তো সব করছি। হ্যাঁ, আপনি পরিবারের সঙ্গেই আছেন, ওদের জন্যই এত কষ্ট করছেন- কথাটি ঠিক। কিন্তু, আপনি জানেন না সঙ্গে থাকা মানেই কাছাকাছি থাকা নয়। সব কাজ করছেন ঠিকই কিন্তু আসল কাজ করছেন না। আপনি কি আপনার সন্তানকে যথেষ্ট সময় দেন। ওরা কি আপনার প্রতি নির্ভয়। আপনার সঙ্গে সমস্যা, সুখ-দুঃখ শেয়ার করে। স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কি আপনাকে বলে। সন্তানের দিকে তাকালে ওদের ভেতরটা বাবা-মায়ের কাছে আয়নার মতো পরিষ্কার দেখা যাবে। সন্তানের বাবা-মায়ের কাছে লুকানোর কিছু নেই। যদি থাকে আপনি তো জানেন না। আপনি তো ওভাবে তাকিয়ে দেখেননি। ওদের ভেতরটা আয়নার মতো নাকি অন্ধকারাছন্ন। আপনার স্ত্রীর ভরণ-পোষণ সবই তো করছেন। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন তার মধ্যে আত্মতৃপ্তি বোধ আছে কিনা। সে আপনাকে বন্ধু ভাবে কি না। আপনি কি তাকে সঙ্গ দেন। সঙ্গ মানে শুধু পাশাপাশি থাকা নয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হবে মান্নাদের সেই গানের মতো, ‘আমার না যদি থাকে সুর, তোমার আছে তুমি তা দেবে। তোমার গন্ধহারা ফুল আমার সুরভী নেবে। এরই নাম প্রেম...। এভাবে কি ভেবে দেখেছেন? সঙ্গহীনতায় স্বামী-স্ত্রীর দূরত্ব বেড়ে যায়। অল্প কথাতেই প্রায়ই খিটিমিটি লেগে যায়। ছোট বেলায় একটু চোখের আড়াল হলেই মা-বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য মনটা আকুল হয়ে উঠত। আজ আপনার বৃদ্ধ মা-বাবা আপনার জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় থাকেন। আপনি তা বুঝতেও পারেন না। আপনার একটু সময় দেয়া, একটু কথা বলা, একটু বুকে টেনে নেয়া তাদের জীবনকে আনন্দময় করে তুলবে। তাদের আরও বেশি দিন বেঁচে থাকার ইচ্ছে করবে। অযতেœ অবহেলায় বেড়ে ওঠা গাছ যেমন আগাছা, তেমনি। শষ্যক্ষেতের আগাছা উপড়ে ফেলা যায়। আপনি কি সমাজ থেকে আপনার আগাছা সন্তানকে উপড়ে ফেলতে পারবেন? আপনার মেয়েটাও কেমন যেন ইচড়ে পাকা হয়েছে। ইন্ডিয়ান টিভি সিরিয়ালের মেয়েদের মতো করে কথা বলে। এখন ভেবে দেখুন পরিবার সন্তানকে সময় না দিয়ে ছুটে চলায় কি লাভ আপনার হয়েছে। জীবনটা তো ষোল আনাই মিছে হয়ে গেছে। এতক্ষণ তো যে সকল অভিভাবক অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন কিন্তু শুধু মানসিকভাবে পরিবারের সঙ্গে নেই, পরিবারকে সঙ্গ দেয় না, সন্তানদের সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেয় না তাদের কথাই বলা হয়েছে। কিন্তু যেসব অভিভাবক বাড়িতে ঝগড়া-ঝাটি মারপিট করে, স্বামী-স্ত্রীতে অশান্তি, সন্দেহ, সেই পরিবারের শিশুদের কথা ভাবুন। এসব পরিবারের শিশুরা আক্রমণাত্মক আচরণে অভ্যস্থ হয়ে যায়। হিংস্র আক্রমণাত্মক ভাষা শিশুর মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ ধরনের পরিবারের সন্তান বেশি বখে যায়। আবার একক পরিবারের বা বাবা-মা উভয় চাকরি করেন এ ধরনের পরিবারের সন্তান নিঃসঙ্গতায় ভোগে। বাবা-মায়ের বা আপনজনের সঙ্গহীনতায় তারা একটু একরোখা জেদি হয়ে উঠে। মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণা থেকে জানা যায়, পরিবারে যে কোন কারণে অবহেলিত শিশুরা সব সময় নিজ পরিবারে সমস্যা তৈরি করে থাকে। কারণ অবহেলায় বেড়ে উঠা প্রতিটি শিশু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। পাশাপাশি ভালবাসার মধ্যে বেড়ে উঠা শিশু দেহ ও মনে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠে। তাই শিশুর মানসিক বৃদ্ধির জন্য প্রথমত পরিবারকে সজাগ হতে হবে, যাতে করে শিশুর মনে এই ধারণা তৈরি না হয় সে অবহেলিত। তার সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। পরিবারই হলো রাষ্ট্র ও সমাজের মূল ভিত্তি। পরিবার থেকেই একজন নাগরিকের সৃষ্টি হয়। পরিবারই হলো মানুষ গড়ার প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। ভালবাসার জন্ম হয় পরিবার থেকেই। ভালবাসা বিকশিত ও পরিপূর্ণতা লাভ করে এই পরিবারেই। আর সেই পরিবারেই যদি সব সময় অশান্তি লেগে থাকে, ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে, তবে সন্তানরাও কলহ প্রিয় হয়ে উঠে। সন্তানের মানসিক বিকাশে বাবা-মায়ের ভালবাসার বিকল্প নেই। পরিবারে মাকে নির্যাতিত হতে দেখলে বা মা-বাবা পরস্পরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলে সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। আবার অনেক পরিবারে মেয়ে সন্তানের চেয়ে ছেলে সন্তানকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এই পাথর্ক্য মেয়ে সন্তানটির উপর নেতীবাচক প্রভাব পড়ে। আপনি জীবনে অনেক কিছু পেয়েছেন, অনেক কিছু হয়েছেন। কিন্তু আপনার এই আনন্দ বা প্রাপ্তির সঙ্গে যদি পরিবার না থাকে তা হলে এই প্রাপ্তির আনন্দ কোথায়। একজন মানুষ যত বড় হোক না কেন তার মূল গ্রথিত থাকে পরিবারেই। পরিবারের সুখ-দুঃখ মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। পরিবারের সুখই হচ্ছে প্রকৃত সুখ। তাই পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রতি বিশেষ করে শিশুদের প্রতি যতœশীল হতে হবে। তাদের ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাতে একদিকে যেমন আপনি ভাল থাকবেন তেমনি দেশটাও সুনাগরিকে ভরে যাবে। একজন সুনাগরিকই পারে দেশটাকে বদলে দিতে। খুব ব্যস্ত আপনি, ব্যস্ততা ছাপিয়ে কথন একটু বিশ্রাম নেবেন, সেই ফুসরত খুঁজতেই আপনি ক্লান্ত। অফিস থেকে বাসা, আবার বাসা থেকে নেই অফিস। অফিসেও তো কাজের চাপ আর অশান্তির কোনো শেষ নেই। বাসায়ও তো অশান্তি বা ঝুটঝামেলার শেষ থাকে না। সবমিলিয়ে জীবনটা কেমন ঘেটে যাচ্ছে। অথচ আপনি প্রায়ই ভাবেন যে আগের দিনগুলো কত সুন্দর ছিল। পরিবারের সঙ্গে কত ভালো একটা বোঝাপড়া, সখ্যতা ছিলো একসময়। কিন্তু দিন যাচ্ছে, আর আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন নিজের প্রিয় পরিবার থেকে। এটা কি আসলেই ঠিক?
মনোবিদেরা বলছেন, সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের মূলমন্ত্র- পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটনো। এই পারিবারিক সময় যে খুব আয়োজন করে কাটাতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
টেলিভিশন, ট্যাব,স্মার্টফোন আর ল্যাপটপ ব্যবহারের মধ্যদিয়ে খাবার টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে প্রযুক্তি। এসব ডিভাইস দূরে সরিয়ে খাবার টেবিলে গল্প করুন পরিবারের সব সদস্য মিলে। বাবা-মায়েরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে একে পারিবারিক নিয়মে পরিণত করতে। ইন্টারনেটের মহে আমরা রীতিমতো দিশেহারা। পারিবারিক আড্ডা বা বন্ধুমহলেও আমরা আড্ডা রেখে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকি। তাছাড়া অফিসের সারাদিনের ধকল শেষে বাড়িতে ফিরেই আবারো ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকি। এতে পরিবারের সদস্যের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। তাই যতটুকু সম্ভব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিরত থাকুন এবং পরিবারকে যথার্থ সময় দিন।
পরিবারের সদস্যদের খাবারের পছন্দ অপছন্দ আমরা সবাই কম বেশি জানি। সপ্তাহের একটি দিন সবাই একত্রে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোর জন্য পছন্দের খাবার রান্না করা যাক। এতে সম্পর্ক আরও মজবুত এবং পরিবারের সাথে কিছু আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করার সৌভাগ্য হবে।
পরিবারের নিজেদের সদস্যদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে মাসে অন্তত একদিন সবাই মিলে ঘুরতে যান। এছাড়াও কোন আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হবে। এতে কাজের একঘেয়েমিও দূর হবে এবং পরিবারের সঙ্গে খানিকটা সময়ও কাটবে।
পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বাচ্চাদের যোগাযোগ তৈরি করুন। এতে ছোটদের মধ্যে পারিবারিক মূল্যবোধ তৈরি হবে। মাঝে মধ্যে পুরনো ফ্যামিলি অ্যালবাম দেখুন সবাই মিলে। স্মৃতিচারণেও বর্তমান প্রজন্ম পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত হয়। পরিবারে দাদা-দাদী ও নানা-নানীর কাছাকাছি থাকার সৌভাগ্য হয় না অনেকের। মুরুব্বিদের কাছে না পাওয়ার বেদনাটা ঝাপসা বরাবরের মতোই। পারিবারিক মুল্যবোধ তৈরিতে বয়োজ্যেষ্ঠদের অভাববোধ করতে হবে। তাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন সবসময়।
উৎসবমুখর পরিবেশ সবসময়ই পরিবারকে আরও কাছে আনে। জীবনের নানা ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেকেই পরিবারের সঙ্গে বিশেষ দিনগুলো উদযাপন করতে পারি না। এতে পারিবারিক সম্পর্কেও বাড়ে দূরত্ব। তবে নিজেরা একটু চাইলেই সময়ের স্বল্পতাকে দূরে ঠেলে দিয়ে, যতটুকু সময় পাওয়া যায় তার মাঝেই নিজেদের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনার উপলক্ষ্য তৈরি করতে পারি।
প্রায়ই অফিসে কাজের চাপ প্রচুর থাকে। কাজ সময়মত সারতে না পারলে কাজ বাসায় বয়ে নিয়ে যেতে হয়। যার ফলে যে সময়টুকু আপনি পরিবারকে দিতেন তার অনেকাংশই কাজের ব্যস্ততায় ব্যয় হয়। তাই যতটুকু সম্ভব অফিসের কাজ অফিসেই শেষ করুন, পরিবারকে সময় দিন। সারাদিন কি ঘটলো তা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন। এতে পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।
ব্যস্ততা কমে না, দিন দিন বেড়েই চলে। হয়তো কাজের ব্যস্ততায় সবার সঙ্গে দেখা হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়েছে দিন দিন। একই শহরে থেকেও একদিন দেখা করার সময়টিও যেন হয়ে উঠে না, কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে এখন শুধু আপনার শহরই নয়, গোটা পৃথিবী আপনার হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। তাই হাজারো কাজের ফাঁকে নিজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকতা আরও বাড়বে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com
পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com