Successful Blog

নারিরা কি মাহরাম ছাড়া হজ্জ করতে পারবে ?

পুরুষের চেয়ে একটি শর্ত বেশি পালন সাপেক্ষে নারীর জন্য হজ ফরজ। আর তাহলো- ‘মাহরাম।’ মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজপালনে বাধ্যবাধকতা নেই।  

হজে নারীর জন্য মাহরাম পুরুষের শর্ত কেন

মাহরাম পুরুষ ব্যতীত নারীদের তিন দিন বা তার চেয়ে বেশি দূরের সফর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। কারণ এই দীর্ঘ সফরে তার নিজের সম্মান-সতীত্ব রক্ষা করা একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। এ ছাড়া কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার শিকার হলে তখন তার সেবা-যত্নের প্রয়োজন হতে পারে। তখন কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকলে সমস্যা হতে পারে। (আপকে মাসায়েল : ৪/৮০)

মাহরাম কারা?

নারীর জন্য প্রথম মাহরাম হলো- স্বামী। অতঃপর যাদের সঙ্গে ইসলামি বিধান মোতাবেক দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ এবং যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম। ইসলামের পরিভাষায় তারাই নারীর জন্য মাহরাম। এ সব লোকদের সঙ্গে সামর্থ্যবান নারীরা হজে গমন করতে পারবেন।

নারীদের হজ পালন বিষয়ে ইমামদের বক্তব্য

হজরত ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর মতে, নারীর হজ ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো- ‘মাহরাম।’ মাহরাম না থাকলে সম্পদ যতই থাকুক না কেন, নারীর ওপর হজ ফরজ হবে না।’ -বাদায়িউস সানা

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মাহরাম ছাড়া কোনো নারী কোনো পুরুষের সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করবে না এবং কোনো নারী মাহরাম ব্যতিত সফর করবে না।’

এক সাহাবি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (সা.)! আমার স্ত্রী হজ করতে যাচ্ছে আর আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজে যাও।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

ইমাম শাফেঈ ও ইমাম মালিক (রহ.)-এর মতে, ‘নারীর ওপর হজ ফরজ হওয়ার জন্য ‘মাহরাম’ শর্ত নয়। বরং নারীর হজ পালনে শর্ত হলো- তার (হজে গমনকারী নারীর দীর্ঘ সফরের) নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়। সফরের পথ যদি নিরাপদ হয় তবে মাহরামবিহীন একজন নারী একদল মাহরামওয়ালী নারীর সঙ্গে হজে যেতে পারবে।’

হজরত আদি ইবনে হাতেম (রা.) আনহু বর্ণনা করেন, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে আদি! যদি তোমার জীবনকাল দীর্ঘ হয়, তুমি অবশ্যই দেখতে পাবে, ইরাকের হীরা অঞ্চল থেকে একজন নারী একাকী উটের হাওদায় বসে কাবা তওয়াফ করবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাবে না।’ –সহিহ বোখারি ও মুসলিম

ইসলামি আইন বিষয়ের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হেদায়া’য় এসেছে, ‘কোনো নারী যদি মাহরাম ছাড়া হজ করে তবে ওই নারীর হজ আদায় হয়ে যাবে কিন্তু মাহরাম ব্যতিত হজের দীর্ঘ সফর করার কারণে ওই নারী গোনাহগার হবেন।’

আবার কেউ কেউ বলেন, ‘নারীর উচিত মাহরাম পাওয়ার জন্য জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করা। যদি কোনো মাহরাম না পান তবে তিনি নিজে হজে না গিয়ে অন্যের মাধ্যমে বদলি হজের ব্যবস্থা করবেন। আর এটাই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত।’

বাংলাদেশে যে কয়জন আলেম মেধা ও শ্রম দিয়ে গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছেন, মাওলানা লিয়াকত আলী তাদের অন্যতম। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি মিরপুরের মাদ্রাসা দারুর রাশাদের শিক্ষা সচিব ও জামিয়া রাহমানিয়া আজিজিয়ার শায়খুল হাদিস। সম্পাদনা করেছেন কওমি মাদ্রাসার নেসাব ও নেজাম বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক গ্রন্থ ও স্মারক। তিনি দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিচালনাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মিযানুর রহমান জামীল


  • আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 


    সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

    পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

    ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more