সরল ও সত্যবাদী
বিয়ে জন্য সরল ও সত্যবাদী নারীকে পছন্দ করুন। কারণ যার সঙ্গে আপনার সারা জীবনের হিসাব-নিকাশ যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে আপনি বিপদে পড়বেন।
ধর্মান্ধ নয়, ধর্মবিশ্বাসী
বিয়ের জন্য ধর্মান্ধ নয়, ধর্মবিশ্বাসী নারীকে বিয়ে করুন। এ ধরনের নারীরা সংসারের জন্য মঙ্গলজনক। তিনি সারা জীবন আপনার সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারবে।
সংসারী নারী
বিয়ের জন্য অবশ্যই সংসারী নারী বিয়ে করা উচিত। যেসব নারীদের সংসারে মন নেই তারা কখনোই আপনাকে সুখী করতে পারবে না।
বই পড়া নারী
বই পড়া যে কোনো মানুষের একটি বড় গুণ। বই মানুষের সৃজনশীল মেধা তৈরি করে, যা আপনার সংসারে ও সন্তানদের জন্য ভালো। এছাড়া বই পড়া নারীরা শান্ত প্রকৃতির হয়। তারা কখনো অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায় না।
শিক্ষিত
বিয়ে পাত্রী দেখার সময় শুরু রীপ নয়, তার গুণ ও শিক্ষাকে প্রাধান্য দেবেন। কারণ একজন শিক্ষিত মা শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারেন।
সৎ ও চরিত্রবান
আপনার পত্নীকে অবশ্যই সৎ ও চরিত্রবান হতে হবে। স্ত্রী যদি সৎ ও চরিত্রবান না হন তবে সংসার জীবনে আপনি সুখের মুখ দেখবেন না।
দায়িত্ববান
সংসার করার জন্য দায়িত্ববান নারী খুবই প্রয়োজন। কারণ শ্বশুর-শাশুড়ি থেকে শুরু করে সন্তান ও আপনার দায়িত্ব নিতে পারে এমন নারীকে ঘরনি বানান।
এ ধরনের নারীদের বিয়ে করলে সুখী হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। তবে নারীরও জীবনসঙ্গী পছন্দ করার ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো অবশ্যই বিবেচনা করবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা গেছে, লোকজন ফ্রিজের ভেতর টয়লেট পেপার রেখে দেওয়ার মতো একটি অপ্রচলিত বিষয়ে মেতে উঠেছেন।
ইসলাম ধর্মে বিয়ের আইনগত, সামাজিক ও ধর্মীয় মর্যাদা রয়েছে। ছেলে ও মেয়ের একসঙ্গে জীবন-যাপন ও সংসারধর্ম পালনকে ধর্মীয়, সামাজিক ও আইনগত সুরক্ষা দিতেই বিবাহপ্রথার জন্ম।
ইসলামে বিয়ের জন্য খুব বেশি আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয় না। অন্যান্য চুক্তির মতই এতে দুইটি পক্ষ থাকে।
সাক্ষীদের উপস্থিতিতে একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব করলে এবং অন্যপক্ষ তা গ্রহণ করলে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়।
সব নারী-পুরুষ একে অন্যের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না। কাকে বিয়ে করা যায় আর কাকে বিয়ে করা যায় না, এ ক্ষেত্রে ইসলামে একটি মৌলিক নীতি আছে। এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
পুরুষ যেসব নারী বিয়ে করতে পারবে না: পুরুষদের জন্য ১৪ শ্রেণির নারীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ এবং তাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ। কিন্তু এসব নারী ছাড়া অন্য নারীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা পুরুষদের জন্য বৈধ নয়। তবে ইসলামী শরিয়তের শর্ত মোতাবেক তাদের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ।
ওই ১৪ শ্রেণির নারী যথাক্রমে—(১) মা। (২) আপন দাদি, নানি ও তাদের ঊর্ধ্বতন নারীরা। (৩) সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। (৪) আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে ও তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান ও আপন ছেলেসন্তানদের স্ত্রী। (৫) যে স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে, তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর কন্যাসন্তান এবং স্ত্রীর মা—অর্থাৎ শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি ও দাদি শাশুড়ি। (৬) ফুফু—অর্থাৎ পিতার সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। (৭) খালা—অর্থাৎ মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। (৮) ভাতিজি—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। (৯) ভাগ্নি—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কন্যাসন্তান। (১০) দুধসম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও তাদের অধস্তন কোনো কন্যাসন্তান এবং দুধসম্পর্কীয় ছেলের স্ত্রী। (১১) দুধসম্পর্কীয় মা, খালা, ফুফু, নানি, দাদি ও তাদের ঊর্ধ্বতন মহিলারা। (১২) দুধসম্পর্কীয় বোন, দুধবোনের মেয়ে, দুধভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যেকোনো কন্যাসন্তান। (১৩) যৌনশক্তিহীন এমন বৃদ্ধা, যার প্রতি পুরুষের কোনো প্রকার আকর্ষণ নেই। (১৪) অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন বালিকা, যার প্রতি পুরুষের এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। উল্লেখ্য, ১৩ ও ১৪ নম্বরে বর্ণিত মেয়েদের সঙ্গে বিয়ে জায়েজ আছে। উপরোক্ত নারীরা ছাড়া পুরুষের জন্য অন্য কোনো মহিলার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ জায়েজ নয়। (সুরা নিসা, আয়াত : ২৩; তাফসিরে মাজহারি : ২/২৫৪)
নারীরা কোন কোন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা ও আলোচনা।
যেসব পুরুষের সঙ্গে নারীদের বিয়ে বৈধ নয়: নারী এমন ১৪ শ্রেণির পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে, যাদের সঙ্গে তাদের বিবাহ নিষিদ্ধ। যথা : (১) পিতা, দাদা, নানা ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুরুষরা। (২) সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (৩) শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুরুষরা। (৪) ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরসজাত পুত্রসন্তান। (৫) স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র। (৬) ভাতিজা—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে ও তাদের অধস্তন কোনো ছেলে। (৭) ভাগিনা—অর্থাৎ সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে ও তাদের অধস্তন কোনো ছেলে। (৮) চাচা—অর্থাৎ বাপের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (৯) মামা—অর্থাৎ মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। (১০) দুধসম্পর্কীয় ছেলে, ছেলের ছেলে, দুধসম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরসজাত যেকোনো পুত্রসন্তান এবং দুধসম্পর্কীয় মেয়েদের স্বামী। (১১) দুধসম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা, দাদা, নানা ও তাদের ঊর্ধ্বতন পুরুষ। (১২) দুধসম্পর্কীয় ভাই, দুধভাইয়ের ছেলে, দুধবোনের ছেলে এবং তাদের ঔরসজাত যেকোনো পুত্রসন্তান। (১৩) যৌনশক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার মহিলাদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই এবং তার প্রতি মহিলাদেরও কোনো আকর্ষণ নেই। (১৪) অপ্রাপ্তবয়স্ক এমন বালক, যার এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। উল্লেখ্য, ১৩ ও ১৪ নম্বরে বর্ণিত পুরুষদের সঙ্গে বিয়ে জায়েজ আছে।
নারীর জন্য উপরোক্ত পুরুষরা ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। সুতরাং চাচাতো ভাই, খালাতো ভাই, ফুফাতো ভাই, মামাতো ভাই, দেবর, ভাশুর, খালু, ফুফা, চাচাতো শ্বশুর, উকিলবাপ, ধর্মবাপ, ধর্মভাই, দুলাভাই, বেয়াই, ননদের জামাই প্রমুখের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করা হারাম এবং তাদের সঙ্গে বিয়েশাদি জায়েজ। স্ত্রীর বর্তমানে বা তার ইদ্দতের সময় তার বোনকে বিয়ে করা হারাম। (সুরা নুর, আয়াত: ৩১; তাফসিরে মাজহারি : ৬/৪৯৭-৫০২, মাআরেফুল কোরআন : ৬/৪০১-৪০৫, হেদায়া : ২/৩০৭, ফাতহুল কাদির : ২/১১৭)
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com