Successful Blog

জিনা নয় বিবাহ করুন সম্পর্ক হোক হালাল, উদ্দেশ্য হোক জান্নাত

প্রেম মানুষের অন্তরের একটি বিশেষ অবস্থার নাম, যা কারো প্রতি আবেগ, গভীর অনুভূতির সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়। প্রকৃত প্রেম হলো মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রেম, যা ছাড়া অন্য কোনো মানুষ ঈমানদার হতে পারবে না। দুনিয়ায় কেউ কাউকে ভালোবাসলে একমাত্র আল্লাহর জন্যই ভালোবাসে। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মা ও রক্তের আত্মীয়দের প্রতি প্রেমও মহান আল্লাহ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। 

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, সওয়াবের আশায় কোনো মুসলমান যখন তার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করে, তা তার সদকা হিসেবে গণ্য হয়। (মুসলিম : ১২/১৪, হাদিস : ১০০২)

কিন্তু বর্তমানে প্রেম বলতে যা প্রচলিত হয়ে গেছে, তা নিছক একটি অবৈধ সম্পর্ক। যে সম্পর্ক মানুষকে পাপের অতল সমুদ্রে ডুবিয়ে দেয়। এ এক মরীচিকা, যা তাকে আল্লাহর রহমত থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়।

 এই মোহ তাকে দিন দিন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরত করে শয়তানের পূজায় ব্যস্ত করে দেয়। ইতালির পিজায় একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম প্রেম সত্যি ব্যক্তির ভাবনার পরিবর্তন ঘটায়। পিজা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডোনাটেলা মারাজ্জিতি ২০ জন সদ্য প্রেমে পড়া যুগলের ওপর একটি গবেষণা চালান। এই গবেষণায় তিনি যাদের সম্পর্কের বয়স ছয় মাসেরও কম, তাদের আহবান জানান। গবেষণায় তিনি দেখতে চেয়েছেন যে সারাক্ষণ ভালোবাসার মানুষটির কথা ভাবার ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কেমন হতে পারে। গবেষণায় মারাজ্জিতি ছেলেমেয়েদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখেছেন সদ্য প্রেমে পড়া তরুণ-তরুণীদের ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির রক্তের সেরোটোনিনের পরিমাণ একই মাত্রায় রয়েছে। 

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে। আর যারা এরূপ করে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা : মোনাফিকুন, আয়াত : ৯) ওই আয়াতে যাদের ভালোবাসা জায়েজ ও ইবাদত, তাদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে তারা যেন তোমাদের আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন না করে।

তাহলে যে সম্পর্কগুলো মহান আল্লাহ হারাম করেছেন, সেই সম্পর্ক যদি কাউকে আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল করে দেয়, তবে তা কতটা জঘন্য হবে? আল্লাহ হেফাজত করুন। সাইকোলজিস্ট রবার্ট স্টেনবার্গ ভালোবাসাকে তিনটি উপাদানের মধ্যে ভাগ করেছেন। সেই উপাদানটিকে একটি ত্রিভুজের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। সেই তিনটি উপাদানের মধ্যে অন্যতম হলো আবেগ (যৌন অথবা রোমান্টিক আকর্ষণ)। (জি নিউজ) যেই আকর্ষণ মানুষকে ব্যভিচারের দিকে ঠেলে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২)

তাই কাউকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেও তার সঙ্গে বিবাহপূর্ব প্রেম নামে যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে, তা করার কোনো অবকাশ নেই। প্রশ্ন জাগতে পারে, অনেকের ক্ষেত্রে তা হয়তো শারীরিক সম্পর্কে না-ও গড়াতে পারে, সে ক্ষেত্রেও কি তা হারাম হবে? এর উত্তর খোঁজার জন্য এই হাদিসগুলোতে চোখ বোলানো যেতে পারে।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের ব্যভিচার যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের ব্যভিচার আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের ব্যভিচার (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের ব্যভিচার হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা। (মেশকাত, হাদিস : ৮৬)

মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন সে তার মনের মানুষকে না দেখে থাকতে পারে না। সে দূরে থাকলেও কমপক্ষে তার ছবি দেখে অথবা তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে, কমপক্ষে তাকে নিয়ে স্বপ্নের বাসরে হারিয়ে যায়, যার প্রতিটি স্তরকেই উল্লিখিত হাদিসগুলোতে হারাম বলা হয়েছে। কারো প্রতি সত্যি দুর্বলতা চলে এলে, পারিবারিকভাবে তাকে বিয়ে করে নেওয়া উচিত। বিয়ে করার দৃঢ়সংকল্প থাকলেও কোনো বেগানা নারীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হারাম। আর বেশির ভাগ প্রেমের শেষ পরিণতিই হয় বিচ্ছেদ, ধোঁকা। এটি শয়তানের মরীচিকা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সম্পদের আধিক্য প্রকৃত ধনাঢ্যতা নয়, বরং প্রকৃত ধনাঢ্যতা হলো অন্তরের ধনাঢ্যতা। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৪৬)

তাকদিরে বিশ্বাস অন্তরের ধনাঢ্যতা বাড়ায়। আবু হুরায়রা (রা.)-কে উপদেশ দিয়ে রাসুল (সা.) বলেছিলেন, তোমার তাকদিরে আল্লাহ যা বণ্টন করে রেখেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকবে, তাহলে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হতে পারবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)

এর ব্যাখ্যায় ইমাম মানাভি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি তাকদিরের নির্ধারিত রিজিক পেয়ে তুষ্ট থাকে, সে কখনো মানুষের সম্পদের দিকে প্রলুব্ধ হয় না।ফলে সে অভাবমুক্ত থাকে এবং অন্তরের দিক থেকে ধনী হয়ে ওঠে। (মানাভি, আত-তাইসীর বি শারহে আল-জামিইস সাগির : ১/২৭)

কোনো মুসলমান ভুল বা পাপ কাজ করে ফেললে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়। তখন সে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আল্লাহর দিকে মনোযোগী হয়। তাওবা বা ক্ষমা প্রার্থনার জন্য যে সালাত আদায় করা হয়, তাকে সালাতুত তাওবা বলা হয়। আবু বকর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কোনো ব্যক্তি যদি গুনাহ করে, অতঃপর উঠে দাঁড়ায় এবং পবিত্রতা অর্জন করে আর দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ১৩৯৫)

তাওবার জন্য নিম্নের দোয়া বিশেষভাবে সিজদায় ও শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে পাঠ করতে হবে।

أَسْتَغْفِرُ الله الذي لا إله إلا هو الحَيَّ القيَّومَ وأتوب إليه

উচ্চারণ : ‘আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি’।

অর্থ : আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি সেই আল্লাহর কাছে, যিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।


আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 

সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com



We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more