বিবাহিত জীবনে স্ত্রীকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। যদিও অনেকে মনে করেন অর্থই সকল সুখের মূল, আসলে ব্যাপারটা তা নয়। কারণ অনেক গবেষনায় দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত পরিবারের তুলোনায় মধ্যবিত্ত পরিবারে ভালবাসার মূল্য অনেক বেশি। সেসব পরিবারে পারিবারিক বন্ধনও দৃঢ়। আমরা যখনই অর্থকে সব কিছুর উপরে প্রাধান্য দিব তখনই আমাদের কাছের মানুষদের সঙ্গে বন্ধন হাল্কা হতে শুরু করে।
সংসার সুখী হতে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদেরও অনেক ব্যাপারে মনযোগী হতে হয়। বস্তুবাদি জীবনকে দূরে রেখে যে সকল কাজের মাধ্যমে স্ত্রীকে খুশি করা যায় সেগুলো করার চেষ্টা করতে হবে। যেসব কাজের মাধ্যমে সহজেই স্ত্রীর মন জয় করা যায় তা আজ দেয়া হলো।
১. ঘরের কাজে সাহায্য করা :
আমাদের সমাজে কিছু নিয়ম বহুদিন ধরে চলে আসছে। তাহলো পুরুষেরা ঘরের কাজ করবে না এবং ঘরের কাজ এবং বাচ্চা পালা শুধুমাত্র মহিলাদের দায়িত্ব। এটা ঠিক নয়। সুখী সংসার এবং দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনকে কাজ করতে হবে। সারাদিন অফিস করে এসে ঘরের কাজে সাহায্য করতে মন নাও চাইতে পারে তবে মনে রাখাটা জরুরি। আপনি বাইরে পরিশ্রম করলেও সারাদিন আপনার স্ত্রীও কিন্তু ঘরে পরিশ্রম করেছেন। সে ক্ষেত্রে রাতের কিছু কাজ ভাগ করে নেয়াটা খুব কঠিন এবং পরিশ্রমের কিছু হবে না।
২.স্ত্রীর সমস্যার কথাগুলো মন দিয়ে শুনুন :
গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক বা সাংসারিক সমস্যায় পুরুষদের চেয়ে মেয়েরা অনেক বুঝে সমাধান করতে পারে। কিন্তু মেয়েদের চিন্তা ভাবনাগুলো তারা তাদের পার্টনারদের সাথে আলোচনা করে নিতেই বেশি পছন্দ করে। তাই সাংসারিক শান্তি রক্ষার্থে স্ত্রীর সমস্যার কথাগুলো মন দিয়ে শোনার পরে মতামত প্রকাশ করা উচিত।
তবে নিজের মত প্রকাশের সময় হুট করে একটা কিছু বলে না বসে বুঝিয়ে বললে বিষয়টা ভালো হয়। কারন হুটহাট মতামত দিলে স্ত্রীদের মনে হতে পারে বিষয়টি না বুঝেই বা সেটা নিয়ে চিন্তা না করেই আপনি আপনার মতামত প্রকাশ করলেন।
নরম ভাবে স্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলুন
৩.স্ত্রীর জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানুন :
বর্তমান সময়ে প্রতিটা মেয়েরই কোনো না কোন স্বপ্ন থাকে। বিয়ের পর বেশির ভাগ মেয়েদের স্বপ্ন ভেঙ্গে যায় শুধুমাত্র স্বামী এবং শশুরবাড়ির সাপোর্ট না থাকায়। আপনি শুরুতেই জেনে নিন আপনার স্ত্রীর জীবনের লক্ষ্য কী, তাকে তার লক্ষ্যে পৌছানোর ব্যাপারে আপনি কিভাবে সাহায্য করতে পারেন সেটা ভাবুন। অনেকে মেয়েই তার পড়াশোনা বিয়ের পরেও চালিয়ে যেতে চায় কিন্তু সাংসারিক কাজের চাপে সেটা পেরে উঠে না। এই ব্যাপারে স্ত্রীকে সাহায্য করতে পারেন শুধুমাত্র আপনি।
অনেকে শুধুমাত্র ভাল বউ এবং মা হতে চায়। তাদের কেও আপনি সাহায্য করতে পারে, সাংসারিক কাজ গুলো গুছিয়ে উঠার জন্য কিভাবে কী করা যায় আলাপ আলোচনা করুন, ভালো ভালো টিপস দিয়ে সহায়তা করেতে পারেন। তাকে এক্সপার্ট হওয়ার জন্য সাহায্য করুন।
৪.স্ত্রীর সৌন্দর্য এবং কাজের প্রশংসা করুন :
নারীরা ঘরের কাজ করবে এখানে প্রশংসার কী আছে? কথাটা একদমই ভুল। নারীরা ঘরে হোক বা বাইরে অনেক পরিশ্রম করেন কিন্তু বিনিময়ে কোনো কিছু টপাওয়ার আশা করেন না।। অথচ তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের জীবন সঙ্গীর প্রশংসা। খাবার যদি খেতে খুব খারাপ না হয় তবে তার রান্নার প্রশংসা করুন।
একই ভাবে দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীকে খুশি করতে তার সৌন্দর্যের প্রশংসাও করুন। সে যখনি নতুন জামা বা সেজে গুজে থাকে তাকে সুন্দর লাগছে বলুন। আপনার এই একটি মাত্র কথা আপনার স্ত্রীর আত্ববিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে বহুগুন।
৫.স্ত্রীকে বলুন আপনি তাকে ভালবাসেন :
এই একটি কথার মাধ্যমে আপনি আপনার স্ত্রীকে অনেক অনেক বেশি খুশি করতে পারেন। মেয়েরা মুখে প্রশংশা বেশি পছন্দ করে। তাকে বলুন আপনি তাকে কেন এত ভালোবাসেন। আপনার জীবনে তার অবস্থান তার মুল্য তাকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলুন।
৬.স্ত্রীকে সরি বলুন :
স্ত্রীকে আপনি যে শ্রদ্ধা করেন সেটা তাকে বুঝাবেন কোন ভুল হয়ে গেলে সরি বলার মাধ্যমে। পুরুষদের দ্বারা এমন অনেক সময় অনেক কাজ হয়ে যায় যেগুলো স্ত্রীরা সহজে মেনে নিতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে সরি বলে তাকে স্বাভাবিক করুন। আপনি বোঝান আপনি তাকে শ্রদ্ধা করেন। এভাবেও সেও আপনার প্রতি অনেক উচ্চ ধারনা পোষণ করবে।
৭.আপনার প্রতিটি কাজের দায় দায়িত্ব নিজে নিন :
আপনি যে কাজগুলো করবেন প্রতিটি কাজের দায় দায়িত্ব আপনি নিজে বহন করুন। নিজের কাজগুলো নিজে দায়িত্ব সহকারে সম্পন্ন করুন। এতে করে আপনার প্রতি স্ত্রীর শ্রদ্ধা আরো বেড়ে যাবে। আবার অনেক সময় দেখা যায় কোন কাজ করার পর সেটি সফল ভাবে না হলে স্বামীরা স্ত্রীদের কে দোষারোপ করতে থাকেন, এই বলে যে, “তোমার জন্য এটা হয়নি”। এটা মোটেও উচিৎ নয়।
৮.স্ত্রীর মতামত নিন :
সাংসারিক প্রতিটি কাজে আপনার স্ত্রীর মতামত নিতে পারেন। তার কোনো মতামতে ভূল-ত্রুটি থাকলে ঠান্ডা মাথায় তাকে সেটা বুঝানোর চেষ্টা করুন। এতে করে ধীরে ধীরে আপনাদের মাঝে বন্ধন দৃঢ় হবে। এছাড়াও একে অপরের মতামত কে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে শিখবেন। একে অপরের কথার মূল্য দিতে জানতে হবে, একে অপরের পরিস্থিতি বুঝতে হবে।
সবশেষে বলা যায় দাম্পত্য জীবন কে সুখী করতে অপর পক্ষ কী করলো সেটা না ভেবে আপনি কি করলেন সেটা নিয়ে ভাবুন। আপনি এক পা আগে বাড়ালে অপর পক্ষও কিন্তু বসে থাকবে না। নিজের ভুল ত্রুটি গুলো শুধরে অন্য পক্ষকে শুধরাতে চাইলে তখন তার আর কিছু বলার থাকে না। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে নিজের সারাদিনের ক্লান্তি কে উপেক্ষা করে এই কাজগুলো করা কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয় কিন্তু। আমরা আমাদের পারিবারিক জীবনকে সুখী করার জন্য এবং নিজের জীবন সঙ্গীকে একটু ভালো লাগা দেয়ার জন্য এতোটুকু করা অসম্ভব কিছু নয়?
হানিমুন বা মধুচন্দ্রিমা, নতুন বিবাহিত দম্পতিদের একসাথে থাকার সূচনা কর...
১. নং যেনা ব্যভিচার থেকে ফিরে থাকা যায়, যুবক বয়সেই আল্লাহ পাকের খুব প্...
দাম্পত্যে দুই থেকে তিন হওয়ার পর জীবনে আসে বিরাট বদল। নতুন অতিথির দায়িত...
সম্পর্কে সবকিছুর আগে প্রয়োজন হয় বিশ্বাসের। বিশ্বাস না থাকলে যেকোনো সম্...
বর্তমানে লাভ ম্যারেজের সংখ্যাই বেশি। তবে অনেকেই পারিবারের পছন্দ অনুযায়...
দাম্পত্যে দুই থেকে তিন হওয়ার পর জীবনে আসে বিরাট বদল। নতুন অতিথির দায়িত...
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ শেষ করেছে রায়হান। এখন চাকরির প্রস...
বিয়ে তো অহরহ হচ্ছে। বিচ্ছেদও। প্রেমের বিয়ে নিয়ে সমাজে বেশ রসিকতা, কানা...
প্রেমের অনুভূতি এক অদ্ভুত অনুভূতি। প্রেমে পড়লেও জ্বালা আবার এর স্বাদ...
পরস্পরের ভালোলাগা এবং ভালোবাসাকে পুঁজি করে একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধা...
We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more