বিপরীত লিঙ্গের প্রতি পুরুষেরা আকৃষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। মনে কৌতুহল জাগে পুরুষের মনে আকর্ষণ সৃষ্টি করা নারীদের সেই বিষয়গুলো কী? এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পুরুষের মন ভোলানো সেই ১০ বৈশিষ্ট্য—
০১. শান্তভাব
পুরুষরা নাটকীয়তা ঘৃণা করে। আর এটি নারী সংশ্লিষ্ট হলে তো কথাই নেই। যেসব নারী শান্ত প্রকৃতির এবং আচারণগতভাবে বুদ্ধিমান তাদের বেশি পছন্দ করে পুরুষরা।
০২. আত্মবিশ্বাস
নারীর আত্মবিশ্বাস পুরুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের মধ্যে আবেদন ও আর্কষণভাব খুঁজে পায় পুরুষরা। নারীর কথা বলা ও নিজেকে আলাদা করার ধরণই একটি বড় পার্থক্য গড়ে তোলে। এক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা পালন করে। আত্মবিশ্বাসহীন নারী থেকে আত্মবিশ্বাসী নারীকেই আপন করে নিতে চায় পুরুষরা।
০৩. বুদ্ধিমত্তা
নারীর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা সব পুরুষকেই আকর্ষণ করে। পুরুষেরা আর্কষণ খুঁজে পায় যখন কোনো নারী যুক্তি দিয়ে অন্তর থেকে কথা বলে।
০৪. হাস্যরস
নারী ও পুরুষ উভয়ই হাস্যরসে আকৃষ্ট হয়। নারীরা যদি কোনো পুরুষকে হাসাতে নাও পারে, নিজের সামান্য হাসি ভোলাতে পারে পুরুষের মন। এটি পুরুষের কাছে উপভোগের। পুরুষের চোখে এটাই অনেক আকর্ষণীয়।
০৫. চোখ
নারীদের চোখ পুরুষের আকর্ষণের একটি বড় জায়গা। আর নীল চোখ হলে কথাই নেই। তারা এটা খুব বেশি খুঁজে থাকে।
০৬. আকর্ষণীয় মনোভাব
মনোভাব একজন ব্যক্তিকে পূর্ণ করে তোলে। একইভাবে নারীদের মনোভাব পুরুষকে আকৃষ্ট করে। ইতিবাচক মনোভাব বেশিই আকৃষ্ট করে পুরুষকে। এটাই সাধারণত পুরুষেরা নারীদের মধ্যে খোঁজে এবং তাদের দৃষ্টিগোচর হয়।
০৭. চুল
অনেক পুরুষ আছে যারা প্রথমেই মেয়েদের চুল দেখে। পুরুষরা চুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়, যেহেতু চুল নারীর ব্যক্তিত্বকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। আকর্ষণীয় দেখাতে চুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব নারীর সুন্দর চুল আছে তাদের দিকে মনোযোগ যায় পুরুষের।
০৮. শারীরিক গঠন
নারীদের এই সম্পদ পুরুষকে আকৃষ্ট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব নারীরা তার শারীরিক গঠনের দিকে নজর দেয় তাদের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয় পুরুষরা।
০৯. মানানসই পোশাক
ট্রেন্ডের সঙ্গে মানানসই পোশাক নারীদের বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। মেয়েদের পোশাক নির্বাচনের ধারণাও পুরুষকে আকর্ষণ করে। কোনো অনুষ্ঠানে নারীদের একটু আলাদা পোশাক নজর কাড়ে সব পুরুষেরই।
১০. রহস্যময় আচরণ
রহস্যময় নারী পুরুষদের আকৃষ্ট করে। সব রহস্য প্রকাশ হলে পুরুষদের কাছে নারীদের আকর্ষণ কমে আসে। তাই রহস্যময়ী নারীদের প্রতি বেশি আকর্ষণ অনুভব করে পুরুষরা।
ছেলেটি কোন দিকে তাকিয়ে রয়েছে: সাধারণ ভাবে যে কোনও অপরিচিত পুরুষের দিকে তাকানোর সময় মেয়েরা তাদের চোখের দিকেই প্রথমে তাকায়। সে ক্ষেত্রে সেই মানুষটি কোন দিকে তাকিয়ে রয়েছে, বা কী দেখছে, সে দিকেও নজর যায়। দেখার ভঙ্গিমা কেমন তা বুঝে নিতে চায়। কোনও পুরুষের দৃষ্টি কোন দিকে নিবদ্ধ, সেটা তার মানসিকতারও পরিচায়ক বটে। ফলে সেই সম্পর্কেও মেয়েরা একটা ধারণা করে নিতে চায় কোনও পুরুষের চোখের দিকে তাকিয়ে।
ছেলেটি কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন: মেয়েদের কাছে পরিচ্ছন্নতা সব সময়েই অত্যন্ত গুরুত্ব পায়। স্বভাবতই তারা যখন কোনও পুরুষের দিকে তাকায়, তখন যাচাই করে নেয়, ছেলেটি কতটা পরিচ্ছন্ন। সে কেমন পোশাক পরে রয়েছে, কিংবা তার জুতোটা কতটা পরিষ্কার— এগুলো দেখে তারা বুঝে নিতে চায় ছেলেটি কতটা পার্সোনাল হাইজিনে বিশ্বাসী।
ছেলেটি কী ধরনের পোশাক পরে রয়েছে: কোনও মানুষের পোশাক তার সামাজিক অবস্থান, ব্যক্তিত্ব, রুচি— সব কিছুরই পরিচয় বহন করে। কোনও পুরুষের পোশাক পর্যবেক্ষণ করে মেয়েরা সেই সমস্ত বিষয় সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরি করে নিতে চায়।
ছেলেটির শরীরী ভাষা কেমন: শরীর, বিশেষত বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যে মনের আয়না, তা নতুন করে বলা নিষ্প্রয়োজন। যেমন, কোনও মানুষ যদি মুঠো বন্ধ করে বসে থাকে তা হলে সে গোপনতাপ্রিয়। শিরদাঁড়া টানটান করে যে বসে রয়েছে, সে কোনও কারণে উদ্বিগ্ন কিংবা উত্তেজিত। কোনও ছেলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে মেয়েরা তার মনের অবস্থাটার একটা আভাস পেতে চায়।
ছেলেটি পায়ে জুতো কেমন পরেছে: পোশাকের মতোই, কোনও মানুষের জুতোও তার সম্পর্কে অনেক কথা বলে। পাশাপাশি কোনও মানুষের বর্তমান অবস্থা কেমন, সে সম্পর্কেও আভাস দেয় জুতো। যেমন ধরুন, আপনি কোনও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গেলে যে ধরনের জুতো পরেন, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টিতে গেলে নিশ্চয়ই তার থেকে আলাদা ধরনের জুতো পরেন। মেয়েরা কোনও পুরুষের জুতোর দিকে তাকিয়ে সেই বিষয়গুলিই আঁচ করতে চায়।
ছেলেটি অন্যদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করছে: কোনও মানুষ তার আশেপাশের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে কেমন ভাবে মিশছে, কী ভাবে কথা বলছে— সেটা তার মানসিকতার বিরাট বড় পরিচায়ক। আশাপাশের মানুষদের সঙ্গে কোনও ছেলের ব্যবহার লক্ষ করে মেয়েরা তার মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করে। এমনকি বাসে ভ্রমণের সময়ে পাশের সিটে বসা ব্যক্তি বা কন্ডাকটারের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা নিবিষ্ট মনে খেয়াল করে। এসময় তার কথার উপস্থাপনা দেখে তার সম্পর্কে ধারণা নিতে থাকে।
ছেলেটি কতটা ঘন ঘন হাসে: প্রাণ খুলে হাসতে পারে যে মানুষ, তার মনটাও বড় হয়— এমনটাই প্রচলিত ধারণা। আবার কথায় কথায় যে হাসে, তার রসবোধ নিশ্চয়ই খুব সূক্ষ্ণ নয়। কোনও ছেলের হাসির আধিক্য দেখে মেয়েরা তার সম্পর্কে এমনই কিছু ধারণা গড়ে নিতে চায়।
ছেলেটি ম্যানার্স জানে কি না: লিফটের দরজা খুলে গেলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে ‘লেডিজ ফার্স্ট’ বলে এগিয়ে দেয় যে পুরুষ, কিংবা বাসে বয়স্ক মানুষকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজের সিট ছেড়ে দেয় যে যুবক— তাদের প্রতি মেয়েদের একটা আলাদা আকর্ষণ থাকে সব সময়েই। কোনও ছেলের দিকে তাকানোর সময়ে মেয়েরা তাই দেখে নিতে চায়, সেই ছেলের সৌজন্যবোধ রয়েছে কি না।
ছেলেটি অস্থির কি-না: কোনো ছেলে কতটা স্থির বা চঞ্চল তা যাচাই করার সুযোগ খুঁজতে থাকে মেয়েরা। সেজন্য সামনের ছেলেটি কী করছে, অযথা হাত-পা নাড়ছে কি-না, খুঁতখুঁতে স্বভাবে কোথাও তাকাচ্ছে কি-না এসব খেয়াল করে মেয়েরা। এমনকি বাস বা ট্রেনে চলাচলের ক্ষেত্রে এসব বেশি ধরা পরে।
প্রযুক্তিপ্রেমি কি-না: এখন প্রযুক্তির যুগ। ছেলেটি হাল আমলের প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন কি-না তা যাচাই করে অনেক মেয়ে। এজন্য প্রথমেই বেছে নেয় তার মোবাইল ফোন ব্যবহারের দিকটি। ছেলেটি কী অযথাই ফোন নিয়ে খেলা করছে, নাকি শখের বশে তা দেখে মেয়েরা। ফোনে কারও সঙ্গে উচ্চ শব্দে কথা বলছে কি-না, এমনকি অপর প্রান্তের কেমন ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বলছে তাও জানার চেষ্টা করে মেয়েরা। ছেলেটির কথা বলার ধরণ দেখে ও ফোন-আসক্ত কি-না তা, নিমিষেই যাচাই করে নেয় মেয়েরা।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলার পথে রুচিশীল ছেলেদের আরও সতর্ক হয়ে চলতে হবে মেয়েদের মনোযোগ পেতে হলে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com