Successful Blog

বিয়ের পূর্বে আপনার পার্টনারের কাছ থেকে যা জেনে নেওয়া উচিত

প্রেমের বিয়েতে তো আর সবার ক্ষেত্রে হয় না। প্রস্তাবের বিয়েও অহরহ হচ্ছে। হয়তো দুই-একবার দেখা, পরিবারের সবার মতামত নিয়ে বিয়েতে ‘হ্যাঁ’ বলে দেওয়া। সারা জীবনের জন্য একজন সঙ্গী জুড়ে নিচ্ছেন, তার সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নেওয়াটা আপনার অধিকার। মানুষের মুখ দেখে তো আর সব বুঝে ফেলা সম্ভব নয়, তাই বিয়ের আগেই কিছু কথা জেনে নেওয়া জরুরি। এতে করে বিয়ের পরের জীবন তুলনামূলক সহজ হয়। বিয়ের আগে পাত্রীর কাছ থেকে জেনে নিন এই ৫ বিষয়-

প্রাক্তনের প্রতি দুর্বলতা আছে কি না

বলছি না যে প্রত্যেকেরই প্রাক্তন থাকে, তবে থাকাটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তাই তার কাছ থেকে খুব ভদ্রভাবে জেনে নিতে পারেন যে তার কোনো প্রাক্তন আছে কি না। যদি থেকে থাকে তাহলে তার প্রতি এখনও কোনো দুর্বলতা আছে কি না। যদি এখনও সে প্রাক্তনকে ভুলতে না পারে তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বিয়ের পরেও। তাই আগেভাগেই জেনে নিন। এতে আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

আপনাকে পছন্দ তো?

আপনাকে তার পছন্দ হয়েছে কি না সে সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। যদি সরাসরি প্রশ্ন না করতে পারেন তবে বোঝার চেষ্টা করুন। তার আচরণের দিকে একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন যে আপনাকে তার আদৌ পছন্দ কি না। যদি পছন্দ না হয়ে থাকে তবে এই সমস্যা বিয়ের পরে আরও বাড়তে থাকবে। তখন সুখী হওয়া কঠিন হয়ে উঠবে। তাই আগেভাগেই বোঝার চেষ্টা করুন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।

জোর করে বিয়ে দিচ্ছে কি না

এমনটা তো অনেকই হয়, পাত্রী রাজি না থাকলেও জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবার। হয়তো পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বলতেও পারে না, কিন্তু বিয়ের পরে নিজেকেও মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে অশান্তির মুখে পড়ে দু’টি জীবন। তখন সুখে সংসার করা হয়ে ওঠে না। তাই ভালো করে জেনে নিন যে এই বিয়েতে পাত্রীর মত রয়েছে না কি জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তার কোনো সমস্যা হবে কি না

আপনার সঙ্গে বিয়েতে সে রাজি কি না, আপনার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার কোনো সমস্যা হবে কি না তা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলুন। কারণ সে তার পরিচিত সবকিছু ছেড়ে আপনার কাছে আসবে, তাকে একটি সুস্থ পরিবেশ দেওয়া আপনার দায়িত্ব। তাই এসব বিষয়ে আগেভাগে কথা বলে নিন। এতে বিয়ে পরবর্তী জীবন সহজ হবে।

তার আর্থিক চাহিদার কথা

সবার স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা একইরকম নয়। অনেকের চাহিদা থাকে স্বামীর কাছ থেকে অনেককিছু পাওয়ার। বিয়ের পরে কোনো কারণে তা না পেলে তখন বাড়ে সমস্যা। তাই আপনার আর্থিক সংগতি-অসংগতির কথা তাকে আগেই জানিয়ে দিন। এতে আপনার সামর্থ্য সম্পর্কে সে আগেই বুঝতে পারবে।

  • আপনার হবু জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী হোটেলের ওয়েটারের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে।
  • রুম থেকে বের হওয়ার সময় লাইট বা ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে কি না।
  • স্বাভাবিক কথা বার্তায় কতটা সরি বা ধন্যবাদ শব্দটি ব্যবহার করে।
  • মুঠোফোন কি তার জীবন নিয়ন্ত্রক না সে মুঠোফোনকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  • কতটা এম্প্যাথেটিক?
  • বস্তুবাদী হ্যাপিনেস কতটা তার আছে? ভালো দোকানে কফি পান করতে চান না ভালো কফি যে কোনো জায়গা থেকে উপভোগ করতে পারেন।
  • সময় ব্যবস্থাপনায় কেমন পারদর্শী?
  • দাঁত দিয়ে নখ কাটেন না তো? টেলিভিশনের রিমোট যেখানে সেখানে রাখেন না তো?
  • লিফটের চেয়ে বেশি সিঁড়ি ব্যবহার না করলে বিপদ কিন্তু!
  • অবসর কি ঘুমে না সৃজনশীলতায় ব্যয় করেন?
  • কোনো বই শুরু করলে শেষ করেন কি?  

গা থেকে কাঁথা টেনে না নেওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটানো এই আপনাকেই বিয়ের পর কাকডাকা ভোরে ছুটতে হতে পারে বাজারে। কোনোদিন চুলার আঁচ না নিয়ে ব্যাচেলর জীবন পার করা আপনাকে বিয়ের পর হয়তো ঘরে তিন বেলা কী রান্না হবে সেই সিদ্ধান্তও নিতে হবে।

বিয়ে করতে যাচ্ছেন মানে আজীবন আরেকজনের সঙ্গে বন্ধনে জড়াতে যাচ্ছেন। বিয়ের কথাবার্তা পাকা হওয়ার আগেই তাই দরকারি কিছু বিষয়ে সঙ্গীর সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া ভালো।

১. পছন্দ-অপছন্দ

বিয়ের কথা শুরু হলে আপনারাও নিজেদের মধ্যে টুকটাক কথা বলতে থাকুন। গল্পচ্ছলে একজন আরেকজনের পছন্দ বা অপছন্দের বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন, এতে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে। কোনো বিষয়ে যদি আপনার দ্বিমত থাকে, সেটাও সরাসরি তখনই বলে নিতে পারেন। আবার অপর পক্ষেরও আপনাকে জানার সুযোগ তৈরি হবে। এটা সম্বন্ধ করে বিয়ের বেলায় তো বটেই, প্রেমের বিয়েতেও আরেকবার ঝালাই করে
নেওয়া ভালো। এতে সংসার শুরু হওয়ার পর কিছু বিষয়ে মানসিক প্রস্তুতি থাকবে। আর এই বিষয়গুলো সব হয়তো তালিকা ধরে বলা সম্ভব না, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেই পারেন।

২. আর্থিক ব্যবস্থা

বিয়ের পর শুধু প্রেম দিয়ে দাম্পত্য সুন্দর রাখা সম্ভব নয়। যখনই সেখানে আর্থিক সংকট দেখা দেবে, তখনই অশান্তি দানা বাঁধবে। ‘অভাব এলে প্রেম জানালা দিয়ে পালায়’—বহুল প্রচলিত এই কথাটি তো আর এমনি এমনি আসেনি। তাই বিয়ের আগেই বুঝে নিন আপনার আর্থিক বিষয়ে সঙ্গীর প্রত্যাশা কী। তিনি কি সংগ্রাম করে বেড়ে উঠেছেন, নাকি টাকার প্রাচুর্যে? সঙ্গী যদি ছোটবেলা থেকে অঢেল টাকাপয়সা খরচে অভ্যস্ত না হয়, তাহলে আপনার জন্য বিষয়টি স্বস্তির। অনেকে সঙ্গী বা তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো দেখে দ্রুত বিয়ে সেরে নিতে চান। এ সিদ্ধান্ত আপনার পরবর্তী জীবনের জন্য সুখকর না–ও হতে পারে।

৩. কোথায় থাকবেন

সাধারণত আমাদের দেশে বিয়ের পর কনেকে নিয়ে আসা হয় স্বামীর গৃহে। সেখানে কেউ হয়তো বাবা, মা, ভাইবোনসহ থাকেন, কেউ আবার আরও বড় পরিসরে। এখানেই তৈরি হয় সংকট। মেয়েটি হয়তো ‘নিউক্লিয়ার’ পরিবারের ছোট পরিসরে বড় হয়েছে। এত বড় পরিবারে থেকে সে অভ্যস্ত নয়। আবার স্বামী-স্ত্রী কর্মজীবী হলে স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে আবাস থেকে কতটা দূরে কর্মস্থল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মনোবিজ্ঞানী জানান, তাঁর চেম্বারে সম্প্রতি ঢাকা শহরের এক জনপ্রিয় (বিত্তবান) দম্পতি এসেছিলেন। সংসার শুরুর তিন মাসের মধ্যেই থাকার জায়গা (বাসা) নিয়ে ঝামেলায় পড়েছেন এই দম্পতি। শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছেন স্ত্রী, আলাদা বাসা নিতে চান তিনি। কারণ হিসেবে বলছেন, শাশুড়ির সবকিছুতে অতি আগ্রহ। সারা দিন অফিস শেষে বাড়িতে ফেরার পর স্বামীর সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর ফুরসতও পান না। এদিকে আবার ঘরের সব কাজ মেয়েটিকেই করতে হয়। ছোটবেলা থেকে হোস্টেলে বড় হওয়ার কারণে তিনি থাকতে চান নিজের মতো করে। যা এখানে সম্ভব হচ্ছে না। হয় আলাদা বাসা নিতে হবে; অথবা মেয়েটি এ বিয়ে আর এগিয়ে নিতে চান না।

৪. সন্তানসন্ততি

আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় অনেকেই বিয়ের আগে বিষয়টি নিয়ে হয়তো আলোচনা করতে দ্বিধায় পড়েন। তবে নিজেদের মধ্যে সন্তানাদি নিয়ে আলোচনা করে নেওয়াও ভালো। কত দিন সন্তান নিতে চান না, কয়টা সন্তান চান; কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা এগিয়ে রাখা যেতে পারে। সন্তান বড় করার ক্ষেত্রে একেকজনের ভাবনা হয়তো একেক রকম থাকে, তাই আলোচনা করে নেওয়াই ভালো। সন্তানকে কোন বয়সে কতটা স্বাধীনতা দেবেন, নাকি দেবেন না, সেসব আলোচনায় দুজনের মতামত কাছাকাছি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নাহলে দাম্পত্যে তিক্ততা আসবে। এখানে আরেকটি বিষয় দুজনের আলোচনার মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি, সেটা হলো, নিজের অপূর্ণ অনেক ইচ্ছা বাবা-মা সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করবেন বলে ঠিক করে রাখেন। যা মোটেও উচিত নয়। আপনারা হয়তো তাকে সেই পরিবেশটা তৈরি করে দিতে পারেন, সেটা গ্রহণ করা বা না করার স্বাধীনতা সন্তানের থাকা উচিত।

৫. কাজকর্ম

বিয়ের পর নতুন বউয়ের বাইরে কাজ করার ব্যাপারে অনেক পরিবারে আপত্তি থাকতে পারে। তাই বিয়ের আগেই পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এই সিদ্ধান্ত পাত্র-পাত্রীদেরই নিতে হবে। ঘরের কাজ মানেই স্ত্রী করবে, আপনার সঙ্গীর মধ্যে এই ভাবনা থাকলে বিয়ের আগে আরেকবার ভাবতে পারেন। আলোচনাটা হতে পারে ভাগাভাগি নিয়ে। কেউ হয়তো বাজারের দায়িত্ব নিলেন, কেউবা রান্না। আবার একদিন বাসন মাজলেন স্বামী, স্ত্রী হয়তো ঘরদোর পরিষ্কার করলেন। দুজনের সংসারে উপার্জনে যেমন দুজনেরই অবদান থাকা জরুরি, তেমনি কোথাও বিনিয়োগ করতে চাইলেও দুজনের মতামত থাকতে হবে।

৬. অভ্যাস

মানুষের কিছু অভ্যাস ছোটবেলা থেকে গড়ে ওঠে। যার কিছু হয়তো ঠিক, কিছু ভুল। তবে ঠিক–ভুল মিলিয়েই মানুষ। আপনার হয়তো রাতে ঘুমানোর জন্য চাই নিকষ অন্ধকার, কিন্তু সঙ্গীর অভ্যাস হয়তো ডিম লাইটের আলোয় ঘুমানো। বিছানা গোছানো, মশারি টাঙানো, আলমারি পরিচ্ছন্ন রাখার মতো ছোটখাটো বিষয়ও বিয়ের পর মহা ঝামেলা পাকিয়ে তুলতে পারে। আপনার সরলরেখার মতো চলতে থাকা দাম্পত্যে ছন্দপতন ঘটাতে পারে শব্দ করে ডালের বাটিতে চুমুক দেওয়ার মতো ছোট্ট কাজও। তাই ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন কি না বা কথা বলতে বলতে নখ কাটার অভ্যাস আছে কি না, সেসবও আলোচনার টেবিলে তুলে আনুন। দুজনের অভ্যাস আর বদভ্যাসের সবটাই শুনে নিজেরা সিদ্ধান্ত নিন জুটি গড়বেন কি না।


  • আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 


    সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

    পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

    ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more