খালাতো-মামাতো কিংবা চাচাতো-ফুপাতো ভাইবোন এবং বন্ধুরাও পরিবারের সদস্যদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন। বিয়ে বাড়ির জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা এবং বিয়ে ধুমধাম করে হবার কাজটি অনেকাংশেই তারা করে থাকেন। বিয়ের প্রতিটি কাজে হাত লাগানোর পাশাপাশি পুরো বিয়ে বাড়ি হাসি, ঠাট্টা, আনন্দ করে জমিয়ে রাখাই যেন তাদের কাজ। গায়ে হলুদের স্টেজ, পুরো বাড়ি আলপনা করা, কনের হাতে মেহেদি পরানো, ডালা সাজানো, বিয়ের ডালাগুলো অপরপক্ষের বাড়িতে দিয়ে আসা, নাচ ও গানের আয়োজনের কাজ তারা করে থাকতে পারেন।
নিকট আত্মীয়:
বিয়ের বাজার, বাবুর্চি ঠিক করা এবং ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলো গুছিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন বর বা কনের চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু কিংবা ফুপা- ফুপু। ২ পক্ষের মুরব্বীদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সুষ্ঠুভাবে সব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে পারেন তারা।
এছাড়া বিয়ের কেনাকাটা করার ক্ষেত্রে বর ও কনে এবং তার ভাই বোনরা চাইলে একসাথে শপিংয়ে যেতে পারেন। এতে সবার মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠার পাশাপাশি দুপক্ষের পছন্দ অনুযায়ী সব নির্বাচন করার সুযোগ থাকে।
আমাদের দেশের বিয়েতে অনেক প্রথা বা নিয়ম পরিবর্তন করা উচিত । যথা :
ছেলেদের ক্ষেত্রে বিয়েতে যেসব পরিবর্তন করার উচিত -
১. লাল রঙের পাঞ্জাবি বা পোশাক পরিবর্তে অন্যান্য রঙে পোষাক পরিধান করা : আজকাল আমাদের দেশের ছেলেদের বিয়েতে লাল রঙের পাঞ্জাবি পরিধান করার খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে । কিন্তু ইসলামের মুসলিম ছেলেদের লাল রঙের পোশাক পরিধান নিষেধ । সেটা অনেকে জেনেও আবার না জেনেও এই কাজ করছে । এটি পরিবর্তন করে অন্যান্য রঙের এবং শালীন মার্জিত পোশাক পরিধান করা উচিত । তবে আজকাল এটি কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে।
২. বিয়ে অনুষ্ঠানে যাবতীয় খরচ মেয়ে পরিবার ওপর দাবি করা পরিবর্তে ছেলে পরিবারকে সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করা : আজকাল প্রায় অনেক বিয়েতে দেখা যায় বিয়ে অনুষ্ঠানে সব যাবতীয় খরচ বেশিরভাগ মেয়ে পরিবার করে থাকে । প্রায় দেখা যায় এইসব খরচ করার পর মেয়ে পরিবার কোনো অভিযোগ থাকে না । কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় ছেলে পরিবার বুঝে না মেয়ে বাবা মা রা কষ্ট করে মেয়ে পিছনে অনেক টাকা খরচ করে মানুষ করে । কিন্তু ইসলামের বিয়ে যাবতীয় খরচ ছেলে পরিবারকে নির্দেশ দিসে । কিন্তু দেখা যায় প্রায় মেয়ে পরিবার বিয়ে খরচ মেটাতে গিয়ে নিজস্ব সম্পদ বিক্রি করে বা জমানো টাকা বা অনেক ধার দেনা করে নানা রকম অর্থনীতি সমস্যা পড়ে । এটি করতে অনেকে দারিদ্র হয়ে পড়ে । তাই ছেলে উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী বিয়ে অনুষ্ঠানে ব্যয় করা বা সেটি সম্ভব না হলে মসজিদে বিয়ে সম্পন্ন করা যেতে পারে। বিয়ে জন্য অনুষ্ঠান করতে হবে এমন কোন কথা নেই।
মেয়েদের ক্ষেত্রে বিয়েতে যেসব পরিবর্তন করার উচিত -
১. শাড়ি পরিবর্তে শালীন বা পর্দাশীল পোশাক পরিধান করার প্রচেষ্টা : আমাদের দেশের বিয়েতে নারীদের লাল শাড়ি পরিধান করার একটি সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু শাড়ি নারীদের কিছুটা পর্দা রাখতে পারে না (কিছু অংশ খোলা থাকে) । বাকিটা বললাম না। কিন্তু শাড়ি পরিবর্তে সেলেয়ার কামিজ, বোরখা বা পর্দাশীল রাখতে সক্ষম এমন পোশাক পরিধান করার উত্তম।
২. উচ্চ পরিমাণে দেনামহণ দাবি করা পরিবর্তে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছুটা দাবি করা : আজকাল প্রায় দেখা যায় মেয়ের নিজের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা থাকলে মেয়ে পরিবার থেকে ছেলে কাছে উচ্চ পরিমাণে দেনামহন জোরদার করেন । কিন্তু ছেলে সামর্থ্য বাইরে দেনমোহর শোধ করতে না পারলে সেটি নিয়ে তাদের কোনো মায়া জন্ম হয় না । আবার অনেক মেয়ে পরিবারে দেখা যায় বিয়ে দেনমোহর কে ব্যবসা পরিণত করে ফেলেছে । এক কথায় বলতে গেলে ছেলে দেনমোহর ঠিকমতো দিতে না পারলে নানা রকম ডির্ভোস দেওয়া হুমকি দেয়। কিন্তু মেয়ে পরিবার বুঝা উচিত ছেলে যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু দেনমোহর শোধ করতে সক্ষম ।
৩. যৌতুক না থাকলে যৌতুকের মতো নিজের ইচ্ছায় জিনিস বা পণ্য দেওয়া বন্ধ করা : আমাদের দেশের বিয়ে যৌতুক আইন থাকলেও অনেক ছেলে পরিবার নানা রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করে যৌতুক দাবি করে যাতে তারা যৌতুক আইন ধরা না পড়ে । আবার অনেক মেয়ে পরিবার দেখা যায় নিজের ইচ্ছায় বিয়ে সময় যৌতুকের মতো পণ্য দেন । কিন্তু দেখা যায় বিয়ে পর অনেক ছেলে পরিবার (যদি লোভী মানুষ হয়) আশা থাকে ভালো ভালো কিছু পাবে মেয়ে পরিবার । কিন্তু এতে দেখা যায় ভালো কিছু পাওয়া জন্য মেয়ে বা তার পরিবার ওপর অনেক চাপ প্রয়োগ করে এবং আবার না পেলে নানা রকম অত্যাচার করে । তাই এইভাবে পণ্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত ।
ছেলে মেয়ে বিয়েতে উভয় যে ভুল গুলো করে থাকে সেটি হলো -
১. গায়ের হলুদ : বিয়েতে পূর্বে গায়ের হলুদ একটি প্রচলিত বিষয় ।অনেকে মনে করে গায়ের হলুদ ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন হয় না। কিন্তু ইসলামের বিয়ে পূর্বে গায়ের হলুদ হারাম । এক সময় বিয়ে পূর্বে গায়ের হলুদ কোনো প্রথা ছিল না ।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গায়ের হলুদ দিন দিন পরিচিত লাভ করে । যা পূর্বে ছিল না । কিন্তু গায়ের হলুদ যে পরিমাণে টাকা খরচ করা হয় সেটি কিছুটা এতিম বা ক্ষুধার্ত ব্যাক্তিই পিছনে ব্যয় করলে বা ভবিষ্যতে জন্য সঞ্চয় করলে অর্থনীতি সমস্যা পরলে সেটি সমাধান করা সম্ভব । তাই আমি ব্যাক্তিগত ভাবে গায়ের হলুদ ব্যয় করা অপ্রয়েজনীয় ।
২. অতিরিক্ত ব্যয় : আজকাল ১০ লক্ষ টাকা বেশি খরচ না হলে বিয়ে সম্পন্ন হয় না সমাজের একটি প্রচলিত বিষয় হয়ে গেছে । তাই অতিরিক্ত ব্যয় করার সামর্থ্য না সে বিয়ে সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু ইসলামের বিয়ে অল্প খরচের সম্পন্ন করার কল্যাণকর ( কোন হাদীসে পড়ে ছিলাম সেটি মনে নেই )। কিন্তু এই অতিরিক্ত ব্যয় যদি ভবিষ্যতে কোনো সময় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয় তখন জীবন চলার মতো অর্থ সঞ্চয় না থাকে তাহলে অনেক কঠিন হয়ে যায় । বলা তো যায় না কখনো কি হয়ে যায়।
এই অতিরিক্ত ব্যয় বিয়েতে না করে অল্প খরচ করে যদি বাকি অর্থ ২,৩ বছর সংসার চালিয়ে যাওয়া যাবে বা অন্য কোন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে জীবন চালিয়ে যাওয়া যাবে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com