বিয়ের আগে মানসিক চাপমুক্ত থাকবেন কীভাবে?
বাতাসে পুরোদস্তুর বিয়ের আবহ। সেলিব্রিটি বিয়ে হচ্ছে একের পর এক, আমজনতাও পিছিয়ে নেই মোটেই! যে সব মেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন এ মরশুমেই, তাঁদের কাছে এই সময়টা বেশ চাপের। প্রথমেই বলেছি, সর্বাঙ্গীণ সুন্দর হয়ে উঠতে সবার আগে দরকার মানসিক স্থিতি ও শান্তি। বিয়ের পর যেহেতু একজন মেয়ের জীবনে একটা বড়ো পরিবর্তন আসে, তাই অনেকেই বাড়তি মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করেন। বিয়ের আগের দিনগুলোয় মানসিক চাপ যদি আপনার নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে, তা হলে চোখের কোলে কালি হাজার কনসিলার লাগিয়েও ঢাকা পড়বে না। বিয়ে পাকা হওয়ার পর তাই আপনার প্রথম কাজ যথাসম্ভব চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করা৷
কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন আসন্ন বিয়ের টেনশন?
মনের মধ্যে অহেতুক নানা সংশয় পুষে না রেখে কাছের মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নিন। হবু স্বামীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নিতে পারলে মন অনেকটাই হালকা হবে। আজকাল অনেকেই চাপমুক্ত থাকতে বিয়ের আগে প্রি-ম্যারিটাল কাউন্সেলিং করাচ্ছেন। মনস্তত্ত্ববিদ, চিকিত্সক অনিরুদ্ধ দেব বলছেন, ‘‘সুস্থ ও উন্নত বিবাহিত জীবন পেতে চাইলে অবশ্যই প্রিম্যারিটাল কাউন্সেলিং করানো দরকার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিবাহিত জীবনে দু’জন মানুষের মধ্যে যে সব সমস্যা দেখা যায়, তার অনেকটাই আসে ভুল প্রত্যাশা থেকে। প্রিম্যারিটাল কাউন্সেলিংয়ের সাহায্যে এই বিষয়গুলোর মোকাবিলা করা যায়। শুধু মনের মিলই নয়, শরীর সংক্রান্ত নানা বিষয়ও, আলোচনায় উঠে আসে।’’ কাজেই প্রয়োজন মনে করলে প্রাক-বৈবাহিক কাউন্সেলিংয়ের পথে হাঁটতেই পারেন।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
সামনে বিয়ে বলে সারাদিন শুধু বিয়ের চিন্তাই করবেন? জীবনের অন্যান্য দিকগুলোও কিন্তু একইরকম গুরুত্বপূর্ণ৷ নিজের কাজে মন দিন, বন্ধুদের সঙ্গে অবসর সময় কাটান৷ আপনি যদি চাকরিরতা হন, তা হলে আপনার নিজেকে ব্যস্ত রাখা সহজ হবে৷ যাঁরা চাকরি করেন না, তাঁরাও নিজেকে ব্যস্ত রাখার উপায় খুঁজে নিন৷ হবি ক্লাসে যোগ দিন, গান শুনুন, বাগান করুন - দেখবেন, মন হালকা লাগছে৷
ভরসা রাখুন ভেষজে
মনস্তত্ত্ববিদের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি অনেকেই ভরসা রাখেন ভারতীয় ভেষজের উপর। এ ব্যাপারে সবার আগে উল্লেখ করতে হয় অ্যারোমাথেরাপির৷ এমন কিছু সুগন্ধি রয়েছে যা স্নায়ুর জট ছাড়িয়ে শরীর মন হালকা করে তোলে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে অ্যারোমাথেরাপির সাহায্যে স্ট্রেস অনেকটাই কমানো সম্ভব। সুগন্ধি পারফিউম মাখুন, অ্যারোমা অয়েল ডিফিউজ়ার বা সেন্টেড ক্যান্ডল রাখুন ঘরে৷ দেখবেন অহেতুক দুশ্চিন্তা আর জ্বালাচ্ছে না!
কীভাবে ব্যবহার করবেন অ্যারোমা অয়েল?
পারফিউম হিসেবে: পছন্দের সুগন্ধি পারফিউম হিসেবে মাখুন। কানের পিছনে, কবজিতে বা অন্য যে কোনও পালস পয়েন্টে দু’ একফোঁটা মেখে নিলেই দিনভর ফুরফুরে থাকবেন।
মাথায় রাখতে হবে, বড়োদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা একরকম হলেও বাচ্চাদের বেলায় কিন্তু মোটেই সহজ নয়! একে তো দীর্ঘ দু'মাস ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে হাঁফিয়ে উঠেছে বাচ্চারা, আপনার অফিস এ মাসে খুলে গেলেও ওদের স্কুল খুলতে এখনও দেরি! ফলে বাচ্চাদের সামলানো আরও মুশকিল হতে পারে! কীভাবে মোকাবিলা করবেন এই পরিস্থিতির?
প্রথমে নিজে একটা কথা বুঝে নিন। লকডাউন শিথিল হয়ে আনলক পর্যায় শুরু হলেও কোভিড কিন্তু এক্ষুনি বিদায় হবে না! মানে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। ফলে বাচ্চাদের সাবধানে রাখতেই হবে। পার্কে বন্ধুদের সঙ্গে হুটোপাটি এখনই চলবে না! বাচ্চাদের এই কথাটা বোঝাতে হবে আপনাদেরই। বাচ্চার সঙ্গে কথা বলুন। ওকে বোঝান, কেন সবার ভালোর জন্য আরও কিছুদিন ঘরে থাকতেই হবে। আপনাকে কেন অফিসে যেতেই হচ্ছে সেটাও ওকে বোঝান। ঠিকমতো বোঝালে বাচ্চারা নিশ্চয়ই বুঝবে!
একদম ছোট বাচ্চাকে নিয়ে বেরোনোর উপরে এখনও কিছু নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বাড়ির বাইরে বাচ্চাকে নিয়ে না বেরোনোই ভালো! বাচ্চা খুব বায়না করলে বাড়ির ছাদে নিয়ে ঘুরতে পারেন। যদি একান্ত কখনও বেরোতে হয়, তা হলে বাচ্চাকেও ভালো করে মাস্ক পরাবেন, গ্লাভস পরাতেও ভুলবেন না। সে ক্ষেত্রেও বাড়ির সামনাসামনি থাকাই ভালো!
বাইরের খাবার এখনও কিছুদিন চলবে না। বাড়িতে হালকা সুস্বাদু খাবার রান্না করে দিন। খুব মাঝেসাঝে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনাতে পারেন, তবে ভালো করে গরম করে নেবেন। বাচ্চাকে সময় দিন যেমন এই দু'মাস দিয়েছেন। ওর সঙ্গে গল্প করুন, ছবির বই দেখুন, খেলা করুন। ছোটখাটো হাতের কাজ, ম্যাজিকের মতো জিনিস শেখাতে পারেন। তবে সবসময় কিছু একটা শেখানোর চেষ্টা করবেন না। বাচ্চাকে নিজের মতো থাকতে দিন, তবে নজর রাখুন যেন অনেকটা সময় টিভি বা মোবাইলে বুঁদ হয়ে না থাকে। রং পেনসিল, মেকানো সেট এ সব হাতের কাছে রাখুন। বাচ্চাকে করোনা ভাইরাসের কথা তো নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলেছেন এর মধ্যে! যখন ওদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে, তখনও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে। সেই ট্রেনিংটা এখন থেকেই শুরু করে দিন। স্কুল শুরু হয়ে গেলে কেমন করে সাবধান থাকতে হবে সেটা ওদের ভালো করে শিখিয়ে দিন! বারবার হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা, বাইরে থেকে এসে পোশাক ছেড়ে স্নান করে নেওয়ার মতো নিয়মগুলো শিখিয়ে দিন। তা হলে বাচ্চাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার একটা আগ্রহ তৈরি হবে।
আমাদের প্যাকেজ এর লিংক: moonmarriagemedia.com/packages
সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com
পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com