Successful Blog

সম্পর্কে সততার ও সীমা আছে

সততায় অন্তরের প্রশান্তি। নাজাত লাভ, জান্নাত অর্জন, খোদার সন্তুষ্টি এবং ধনসম্পদেও বরকতের মাধ্যম। সততা মানব চরিত্রের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবজীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। 

মানবসমাজকে যে সীমারেখায় চলতে নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ। এগুলোর মধ্যে সততা অন্যতম। সততা ও স্বচ্ছতা নবী, আওলিয়া, ফেরেশতা, পীর-বুজুর্গ, নেককার ব্যক্তি সবার গুণ এটি। 

শুধু মুসলমান কেন বরং প্রত্যেক মানুষ চাই সে মুমিন হোক বা কাফের, নেককার হোক বা বদকার। অফিসার হোক বা কর্মী। শিক্ষক হোক বা ছাত্র। পীর হোক বা মুরিদ। 

ধনী হোক বা গরিব, পিতা-মাতা হোক বা সন্তানাদী। মোটকথা মানবজীবনের প্রতিটা সেক্টরের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল সততা।

মানবসমাজের নিরাপত্তা, প্রশান্তি, সুখ-শান্তি, বিনির্মাণ, উন্নতির ভিত্তি হল সততা। এ কারণেই সততাকে আপন করে নিতে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। এই গুণ মানুষকে উন্নত, আদর্শ ও নৈতিকতায় ভূষিত করে এবং এর মাধ্যমেই ইসলামি জিন্দেগির পূর্ণতা অর্জিত হয়। 

কোরআন ও হাদিসে এর ফজিলত ও প্রয়োজনীয়তা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। 

আল্লাহ পাক কোরআনুল কারিমের বহু স্থানে সততা ও স্বচ্ছতা অবলম্বনকারী নারী-পুরুষের ফজিলত, আখেরাতে তাদের পুরস্কার, তাদের মর্যাদা, সৃষ্টির মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্য হওয়া এবং বিশেষকরে সৃষ্টিকর্তার কাছে তারা যে প্রিয় এ কথাগুলো আলোচনা করেছেন।

কোরআন-হাদিস অধ্যয়নে এ কথা বুঝে আসে যে, সততা বিষয়টি অনেক ব্যাপক। সততা শুধুমাত্র সত্য কথা বলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সত্য কথা বলার সাথে কাজ-কর্ম, আকিদা-বিশ্বাস সবগুলোতে সততা অন্তর্ভুক্ত। 

মহান আল্লাহ বলেন, আর কেউ আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করলে সে নবী, সত্যনিষ্ঠ, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ-যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন-তাদের সঙ্গী হবে এবং তারা কত উত্তম সঙ্গী। (সূরা নিসা, আয়াত : ৬৯)

কিয়ামতের দিন সততার কারণে জান্নাত মিলবে সত্যবাদীদের। 

এরশাদ হচ্ছে, আল্লাহ বলবেন, এই সেই দিন যেদিন সত্যবাদিগণ তাদের সত্যতার জন্য উপকৃত হবে, তাদের জন্য আছে জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ তাদের প্রতি প্রসন্ন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট; এটা মহাসফলতা। (সূরা মায়িদা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গ লাভ করার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সৎ-স্বচ্ছবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গী হও। (সূরা তওবা, আয়াত : ১১৯)

সত্যবাদীদের প্রশংসা ও গুণাবলী উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেন, মুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখল, ওরা বলে উঠল, এটা তো তাই, আল্লাহ ও তার রাসূল যার প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছিলেন এবং আল্লাহ ও তার রাসূল সত্যই বলেছিলেন। 

আর এতে তাদের ঈমান ও আনুগত্যই বৃদ্ধি পেল। মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সঙ্গে তাদের কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে, তাদের কেউ কেউ শাহাদাত বরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই। 

কারণ আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে পুরস্কৃত করেন তাদের সত্যবাদিতার জন্য এবং তার ইচ্ছা হলে মুনাফিকদেরকে শাস্তি দেন অথবা তাদেরকে ক্ষমা করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহজাব, আয়াত : ২২-২৪) 

এ সূরারই ৩৫ নং আয়াতে সততা এবং স্বচ্ছতাসহ অন্যান্য গুণাবলীতে গুণান্বিত নারী-পুরুষের প্রতিদান ও পুরস্কারের আলোচনা করে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের জন্য রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান। 

মুমিন স্বচ্ছ, মুনাফিক অস্বচ্ছ। মুমিন স্বচ্ছ তাই তারা সত্যবাদী। 

মুমিনরাই যে সত্যবাদী আল্লাহ তায়ালা তা অন্য আয়াতে এভাবে বলেছেন, মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে অতপর তাতে কোন সন্দেহে পতিত হয়নি এবং তাদের জানমাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে। তারাই তো সত্যবাদী। (সূরা হুজুরাত, আয়াত : ১৫)

মহাগ্রন্থ কোরআনের ন্যায় রাসুলের হাদিসেও সততার অনেক ফজিলত এবং মর্যাদার কথা ফুটে ওঠেছে। অন্তরের প্রশান্তি, নাজাত লাভ, জান্নাত অর্জন, খোদার সন্তুষ্টি এবং ধনসম্পদে বরকতের মাধ্যম বলা হয়েছে সততাকে রাসুলের হাদিসে। 

মুমিন এজন্যই সত্যবাদী যে, সে যা বলে তার অন্তরেও তা থাকে এবং কাজে কর্মে হুবহু সেটাই বাস্তবায়ন করে দেখায়। এতে কোন লুকোচুরি বা অস্বচ্ছতা থাকে না। 

নবীজি (সা.) বলেন, সত্যবাদী ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী সিদ্দীক ও শহীদগণের সঙ্গে থাকবে। 

সত্যবাদী ব্যবসায়ী কারা তা হাদিসে এভাবে বর্ণিত হয়েছে, যদি ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য বলে এবং ভালো-মন্দ প্রকাশ করে দেয় তাহলে তাদের লেনদেন বরকতময় হবে। আর যদি উভয়ে মিথ্যা বলে এবং দোষত্রুটি গোপন করে তাহলে এ লেনদেন থেকে বরকত উঠিয়ে নেওয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৩২)

আজকাল মিথ্যা বলাটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। যে ব্যক্তি যত পরিমাণ মিথ্যা বলতে পারে তাকে তত পরিমাণ চতুর, বুদ্ধিমান মনে করা হয়। 

মিথ্যা, চালাকি, ফাঁকিবাজি এগুলোর গোনাহের অনুভূতি মানুষের দিল থেকে ওঠে যাচ্ছে। অথচ এগুলো এমন কাজ যার দ্বারা গোটা সমাজ অশান্তি, রিজিকের সঙ্কীর্ণতার মধ্যে নিপতীত হয়।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ধীকৃত সে, যে কোন মুমিনের ক্ষতি করে অথবা তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪০)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এর নিকট কিছু লোক এসে বললেন, আমরা রাজা-বাদশাদের দরবারে যাই, তখন তাদের সামনে (প্রশংসামূলক) এমন কিছু বলি, যা বাইরে বলি না। এ কথা শুনে হজরত ইবনে ওমর (রা.) বললেন, আমরা এগুলোকে নেফাক (কপটতা, মুনাফেকি) গণ্য করতাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৭৮)

মুসলমানদের আমিরদের কল্যাণকামিতার বিষয়ে যে হাদিস এসেছে তার ব্যাখ্যায় ইমাম নববি বলেন, তাদেরকে যেন মিথ্যা প্রশংসা শুনিয়ে ধোঁকা না দেয়। এটাও কল্যাণকামিতার অংশ। 

হাদিসে আছে, উম্মতের ব্যাপারে আমার যে বিষয়গুলোকে ভয় তন্মধ্যে ভয়ঙ্করতম হচ্ছে বাকপটু মুনাফিক। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস ১/২২)

সাহাবি হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, স্বভাবগতভাবে একজন মুমিনের মাঝে (ভালো-মন্দ) সকল চরিত্রই থাকতে পারে, দুটি চরিত্র ছাড়া এক. খিয়ানত, দুই. মিথ্যা। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২২১৭০; শুআবুল ঈমান, বাইহাকি, হাদিস : ৪৪৭১)

স্বচ্ছতার প্রশংসা করে নবীজি (সা.) বলেন, আমার সুপারিশ তার জন্য যে সাক্ষ দেবে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। এমন এখলাসের সাথে যে, তার অন্তর তার মুখকে সত্যায়ন করবে এবং মুখ অন্তরকে সত্যায়ন করবে। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ৮০৭০)

নাটক, মেলাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মিথ্যা বলাটাকে জরুরি মনে করা হয়। অথচ নবীজি (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে তবে তার জন্য ধ্বংস, তার জন্য ধ্বংস। (সুনানে আবু দাউদ)

এককালে মানুষ বিভিন্ন কিসসা-কাহিনী বলতে গিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিত। কিন্তু এখন তো মানুষ কথায় কথায় দেদারছে মিথ্যা বলে। 

মনে রাখতে হবে! মিথা কথা বলার কারণে লোকেরা তো হাসবে কিন্তু হাদিসের ভাষ্যমতে আল্লাহর ফেরেশতারা এই মিথ্যার দুর্গন্ধের কারণে অনেক মাইল দূরে চলে যায়। (জামে তিরমিজি)

চিন্তা করে দেখতে হবে জীবনের বাঁকে বাঁকে প্রতি পদক্ষেপে আমরা কত মিথ্যার কি পরিমাণ আশ্রয় নিচ্ছি। সততা থেকে কত পিছিয়ে আমরা। 

এ কথা বুঝতে বাকি থাকার কথা নয় যে, মিথ্যাকে একটি ফ্যাশনে পরিণত করা এবং নবী-রাসূলদের গুণ সততা থেকে পিছিয়ে থাকা মূর্খতা এবং বোকামি ছাড়া আর কি হতে পারে? 

তাই আমাদেরকে সদাসর্বদা কথা ও কাজে সততা, সত্যতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করতে হবে। মিথ্যার অভিশাপ ও গ্লানি থেকেও বাঁচতে হবে। তাহলে মানুষ আমাদেরকে শ্রদ্ধা করবে এবং মহান আল্লাহও দেবেন আখেরাতে এর যথোপযুক্ত বিনিময়।

আমাদের প্যাকেজ এর লিংক:   moonmarriagemedia.com/packages 

সিভি/বায়োডাটা পাঠান এই ই-মেইলে: biodata@moonmarriagemedia.com

পছন্দের জীবনসঙ্গী/ জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পেতে বা বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ফেসবুক পেইজে ইনবক্স করুন অথবা +8801716204097 নম্বরে কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট: www. moonmarriagemedia.com

We may use cookies or any other tracking technologies when you visit our website, including any other media form, mobile website, or mobile application related or connected to help customize the Site and improve your experience. learn more